নিহত দেব প্রসাদের কন্যা এলিজাবেথ কর্মকার (২৬) অভিযোগ করেন, ‘প্রতিপক্ষ কাদের ভাট্টি ও তাঁর চার ছেলে সহযোগীদের নিয়ে দেব প্রসাদকে অপহরণ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। ২৫ এপ্রিল আমি মামলা করতে গেলে আগৈলঝাড়া থানা মামলা নেয়নি। মামলা না নেওয়ায় ২৮ এপ্রিল বরিশাল পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলা না নেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ সুপার মামলা নিতে ওসিকে নির্দেশে দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশের ওসি গোলাম সরোয়ার পরের দিন মামলা নেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুর রহমান লাশের সুরতহাল রিপোর্টে লাশের দুই চোখ, পায়ের আঙুলগুলোর নখ তুলে ফেলা, পেটের নিচে ও মাথায় বড় ধরনের রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করেননি। অথচ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এসব এসেছে।’

এসআই আবদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি বিষপানের আলামত পেয়েছি এবং সেভাবেই সুরতহাল করেছি।’

এলিজাবেথ কর্মকার আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে বরিশাল পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করলে তিনি ৮ মে মামলাটি তদন্তর জন্য বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহাবুব হোসেনকে দায়িত্ব দেন। কিছুদিন পর এসআই মাহাবুব বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে পুনরায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। পরে পুলিশ সুপার বরিশাল গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল মোল্লাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। এসআই সোহেল মোল্লা আসামিদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে হত্যা মামলার আসামিদের রক্ষায় দেব প্রসাদ আত্মহত্যা করেছেন মর্মে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। আমি এসআই সোহেলের বিরুদ্ধে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে অভিযোগ করলে তিনি ১২ অক্টোবর মামলাটি তদন্তর জন্য বরিশাল পিবিআইকে দায়িত্ব দেন। পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাঈম বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করেছেন। এখনো হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়নি। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বাবার মতো আমাদেরও একই পরিণতি করার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের ভাট্টি ও ফিরোজ ভাট্টি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দেব প্রসাদ আত্মহত্যা করেছে। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে হয়রানি করতে মামলায় আমাদের জড়ানোর চেষ্টা চলছে।’

মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নাঈম বলেন, ‘তদন্ত কার্যক্রম চলছে। খুব শিগগির রহস্য উদ্‌ঘাটন হবে।’

বরিশাল পিবিআইর পুলিশ সুপার মো. হ‌ুমায়ূন কবির বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। খুব শিগগির হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন