সূত্র জানায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ২৪ ঘণ্টা পাঁচটি ফেরি চলাচল করবে। আর জাজিরা-শিমুলিয়া নৌপথে দিনে দুটি ডাম্ব ফেরি, একটি ছোট ফেরি ও একটি ‘এ’ টাইপের ফেরি চলবে। রাতে ডাম্ব ফেরি দুটি ও ছোট ফেরিটি বন্ধ থাকবে। ওই নৌপথে রাতে শুধু একটি ফেরি চলাচল করবে। আজ সন্ধ্যা ছয়টার পর জাজিরা-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ওই নৌপথের গাড়িগুলো বাংলাবাজার ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথ দিয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন পারাপার হয়। ওই নৌপথে ফেরি চলতে গিয়ে গত বছর ২০ জুলাই পদ্মা সেতুর একটি পিলারের সঙ্গে রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরিগুলো পদ্মা সেতুর সঙ্গে আরও কয়েক দফা ধাক্কা লাগে। এমন পরিস্থিতিতে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গত বছরের ১৮ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর শরীয়তপুরসহ দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ চরম বিপাকে পড়েন। পরে নদীর স্রোত কমে গেলে নভেম্বর মাসে দিনের বেলায় স্বল্প পরিসরে ফেরি চলাচল শুরু হয়।

default-image

জরুরি সেবা নিশ্চিতে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর-মঙ্গলমাঝির ঘাট এলাকায় গত বছর ২৫ আগস্ট নতুন করে একটি ঘাট নির্মাণ করে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ। নাব্য সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ওই পথে ফেরি চালু করা যায়নি। গত বছর ৮ ডিসেম্বর থেকে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল করছে।

ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ কমাতে নৌপথের জাজিরা প্রান্তে আরেকটি ঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ। সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগ ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই ফেরিঘাট নির্মাণ করে। আজ সকাল থেকে নতুন ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু হয়।
ওই ঘাটে কর্মরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মুজাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিকেল পাঁচটার দিকে ফোন আসে, ঘাটে আজ রাতে কোনো ফেরি আসবে না। সব গাড়ি বাংলাবাজারে পাঠাতে হবে। তখন ঘাটে অপেক্ষমাণ ৬০ থেকে ৭০টি গাড়ি বাংলাবাজারের দিকে চলে যায়।

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাটের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (মেরিন) আহম্মেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন পর রাতে পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চলল। ঈদের কারণে রাতে ফেরি চালানো হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বা অন্য কোনো সমস্যা হলে রাতে ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ঘাটের সড়ক ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত। সহজেই যানবাহন পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করতে পারে। তাই জাজিরার ঘাটের চেয়ে তাঁরা এ ঘাটকে প্রাধান্য দিচ্ছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন