পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল বুধবার কলেজ ছাত্রলীগের আয়োজনে ইফতারের আয়োজন করা হয়। দাওয়াত না পেয়ে শাকিল ও তাঁর বন্ধুরা অনুষ্ঠান বর্জন করেন। সন্ধ্যায় শাকিল তাঁর বন্ধু তামিমকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে অটোরিকশা দিয়ে স্থানীয় নিচাবাজারের দিকে রওনা দেন। পথে শহরের হাফরাস্তা এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে রিকশার গতিরোধ করে শাকিলকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় শাকিল দৌড়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন।
এরপর চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে যাওয়ার পথে হামলাকারীরা দ্বিতীয় দফা তাঁদের ধাওয়া দেন। এ সময় শাকিল ও তাঁর বন্ধু দৌড়ে হেমাঙ্গিনী ব্রিজ–সংলগ্ন সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতর ঢুকে পড়েন। হামলাকারীরা সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে ডায়াগনস্টিকের কর্মীরা তাঁদের বাধা দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। এ সময় হামলাকারীরা ডায়াগনস্টিকের বাইরে অবস্থান নেন। এরপর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতর থেকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন করে সহায়তা চান শাকিল। ফোন দেওয়ার ১০ মিনিট পর রাত ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার পুলিশ গিয়ে শাকিল ও তাঁর বন্ধুকে উদ্ধার করে। এরপর আহত শাকিলকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শাকিলের বন্ধু তামিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘হামলাকারীদের সঙ্গে অস্ত্র ছিল। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মীরা সাহসী ভূমিকা না নিলে আর ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া মাত্র পুলিশ না এলে আজ শাকিলকে ওরা মেরেই ফেলত।’

আহত ছাত্রলীগ কর্মী শাকিল জানান, তিনি সুস্থ হয়ে এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় অভিযোগ দেবেন।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনা সত্যি না। আপাতত আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। ভেবেচিন্তে পরে গণমাধ্যমকে জানাব।’

হামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী লিটন বলেন, ‘ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ঘটনার সময় আমি নাটোর পৌরসভার মেয়রের বাসায় ছিলাম।’

নাটোর সদর থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর তাঁরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে গিয়ে শাকিল খানকে উদ্ধার করেন। এ সময় শাকিলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন