বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরপরই আকবরসহ পাঁচ পুলিশ ও সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবদুল বাতেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ৯টি বিভাগীয় মামলা হয়। এ মামলার তদন্তও বছর গড়িয়েছে। বিভাগীয় মামলা চলা ৯ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৫ জন রায়হান হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। এসআই আবদুল বাতেন, এএসআই কুতুব আলী ও দুজন কনস্টেবল সাময়িক বরখাস্ত আদেশে মহানগর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত আছেন।

বিভাগীয় মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিআরবি (পুলিশ আইন) অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কাজে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির (লঘু-গুরু) বিধান আছে। গুরুদণ্ডের আওতায় চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত। লঘুদণ্ডে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার বা পদাবনতি। বিভাগীয় মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শুধু আকবর গুরুদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

হত্যা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের মধ্যে চলতি মাসে শুধু আকবরের বিষয়ে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। আরও বাকি চারজনের তদন্ত চলতি মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে রোববার জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, পুলিশের বিভাগীয় তদন্ত কার্যক্রম ফৌজাদারি মামলার মধ্যে নেই। এর মাধ্যমে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলো বিশ্লেষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পুলিশ ও সাধারণ মানুষও রয়েছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ বিভাগেই পাঠানো হবে। পরে বিভাগীয় আইন অনুযায়ী তাঁদের শাস্তি দেওয়া হবে।

মামলার পরবর্তী তারিখ ২ নভেম্বর
ঘটনার সাত মাসের মাথায় গত ৫ মে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই (সাময়িক বরখাস্ত) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ, টিটু চন্দ্র দাস, ফাঁড়ির টুআইসি পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত এসআই মো. হাসান উদ্দিন ও এসআই আকবরের ‘বন্ধু’ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে চার মাস পর গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। এরপর অভিযোগপত্র গঠনের শুনানির জন্য আদালত আগামী ২ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত একমাত্র আসামি আবদুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা নোমান সিলেটের স্থানীয় একটি দৈনিক ও একটি অনলাইন পোর্টালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ৩০ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে তিনি প্রথম আলোকে বলেছিলেন, এসআই আকবরই এ ঘটনায় তাঁকে ফাঁসিয়েছেন।

আগামী ২ নভেম্বর মামলার ধার্য তারিখে পলাতক আসামির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করার বিষয়টি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সৈয়দ শামীম আহমদ। তিনি বলেন, অভিযোগপত্র দাখিল করার পর স্বাভাবিকভাবে এত দিনে বিচার কার্য শুরু হতো। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে বিলম্বিত হয়েছে।

শঙ্কিত পরিবার
সিলেট নগরীর নিহারিপাড়ায় রায়হান আহমদের বাড়ি। পরিবারে তাঁর স্ত্রী, ঘটনার সময় দুই মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান ও মা রয়েছেন। রায়হান যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ছিলেন। নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকায় এক চিকিৎসকের চেম্বারের ব্যবস্থাপক পদে চাকরি করতেন তিনি।

হত্যার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগের দিন রোববার বাড়িতে দোয়া, শিরনি বিতরণসহ নানা রকম ধর্মীয় অনুষ্ঠান করা হয়েছে। রায়হানের মা সালমা বেগম বিচার ও পুলিশের তদন্ত বিলম্বিত হওয়ায় শঙ্কায় আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলোচিত অনেক ঘটনার বিচার দ্রুত হয়। আমার বেলায় আশ্বাস ছিল দ্রুত বিচার করা হবে। এক বছর গড়িয়েও আশ্বাসের বাস্তবায়ন হয়নি।’

পুলিশের বিভাগীয় মামলার তদন্তও ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ করেন সালমা। তিনি জানান, ‘আমি দ্রুত বিচার চাই। পুলিশের বিভাগীয় মামলার তদন্তে আকবরসহ অভিযুক্ত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি দেখতে চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন