বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নে। মৃত রবিউল আওয়াল ভজনপুর ইউনিয়নের কড়ানুগছ এলাকার রফিকুল ইসলাম ওরফে বেলের ছেলে। রফিকুলের দুই ছেলের মধ্যে রবিউল আওয়াল বড় ছিলেন। তাঁর ছোট ছেলের নাম রাকিব হোসেন। তার বয়স ১৭ বছর।  

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ৪ নভেম্বর ৫১ জনকে আসামি করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলার এক আসামি মৃত ওই তরুণের ডাক নাম রুবেল ও বাবার ডাক নাম বেলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই মামলার ১৮ নম্বর আসামি তিনি। সেখানে তাঁর বয়স দেখানো হয়েছে ৩৫ বছর। মারা যাওয়ার সময় ওই তরুণের বয়স ১৯ বছর ছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় ভজনপুর বাজারের বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে পথসভা করছিলেন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ। এ সময় সড়কের পশ্চিম দিক থেকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত লোকজন ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেলে নিয়ে এসে তাঁর পথসভায় হামলা চালান। এ সময় হামলাকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ, তাঁর লোকজনকে মারধর ও এক কর্মীর মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় রুবেলসহ (মৃত তরুণ) কয়েকজন আসামি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর দুই সমর্থক পবিত্র রায় ও আবুল হোসেনকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।

মারা যাওয়া রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ থেকে ৯ বছর আগে আমার বড় ছেলে রুবেল মারা গেছে। অথচ এখন শুনছি তার নামে মামলা হয়েছে। এটা কেমন ঘটনা? আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার বিচার চাই।’

মামলার বাদী ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারুন অর রশিদ লিটন বলেন, ‘মূলত আসামিদের নাম কম্পিউটার কম্পোজের সময় ভুল হয়েছে। বাবার নাম ও গ্রাম দুটোই ঠিক আছে। আসলে আসামির নাম হবে রাকিব। সেখানে ভুলক্রমে রুবেল হয়েছে। আমি সেটি সংশোধন করে দেব।’

তেঁতুলিয়া মডেল থানার (ওসি) মো. আবু ছায়েম মিয়া বলেন, মামলার এজাহারে রুবেল নামের একজন আসামি আছেন। তবে তিনি মৃত এমন কোনো মৃত্যুর সনদ এখনো কেউ দাখিল করেননি। তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজাহারে মৃত ব্যক্তিকে আসামি করা হলে এর দায়ভার মামলার বাদীর।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন