default-image

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলীমুজ্জামান পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়নে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানকে পাইয়ে দিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সেসব তথ্য-প্রমাণসহ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানোর কথা ভাবছেন তিনি।

গতকাল সোমবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলীমুজ্জামান একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইবিতে আর চাকরি করা হলো না আমার। রিজাইন করব, ইনশা আল্লাহ।’ এই স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। এই চক্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকও আছে। ওই লোকের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে সবচেয়ে বেশি নিউজ হয়েছে। তারপরও তাঁর কিছু হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব, তাঁকে সব বলে দেব।’ তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পদত্যাগ করবেন বলে জানান। তবে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত তিনি জিডি করেননি বা পদত্যাগপত্র জমা দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমানে ৫৩৭ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলছে। ৩০ মার্চ ও ৬ এপ্রিল ৫৩ কোটি টাকা করে ১০৬ কোটি টাকার দুটি দরপত্র খোলা হবে। এই দরপত্রের মধ্যে একটি দরপত্র ঢাকার একটি সংগঠনকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলীমুজ্জামানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করে আসছেন।

এদিকে আলীমুজ্জামান স্ট্যাটাস দেওয়ার পর গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে তাঁর বাসায় যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমান। মাহবুবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক এবং মেগা প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য। রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি প্রাইভেট কার নিয়ে আলীমুজ্জামানের বাসার সামনে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর পরেশ চন্দ্র বর্মণ। এত রাতে কেন এসেছেন—জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, ‘আলীমুজ্জামানের স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে ভিসি স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন। প্রকৌশলীকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না, তাই বাড়িতে এসেছি।’

রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমান ওই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলীমুজ্জামান আমার খুবই ঘনিষ্ঠ মানুষ। ব্যক্তি মাহবুব হিসেবে তাঁর কাছে এসেছি। তাঁকে শুধু থ্রেড (হুমকি) দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে—কাজ চাই, কাজ চাই। বিদেশ থেকে ফোন দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হলো। প্রকৌশলী খুবই সৎ মানুষ। তাঁকে বুঝিয়েছি, চাপ দেবে; কিন্তু সততার জায়গা থেকে একচুলও নড়া যাবে না।’

আপনার বিরুদ্ধেই অভিযোগের তির—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক প্রক্টর বলেন, ‘সততার জায়গা থেকে আমাকে একচুলও বিচ্যুত করতে পারেনি, পারবেও না কোনো দিন। অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও রম্য রচনা।’ এরপর তিনি বর্তমান প্রক্টরের গাড়িতে করে চলে যান। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা না করেই বর্তমান প্রক্টর পরেশ চন্দ্র বর্মণ চলে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রকৌশলী আমাকে বলেছেন, একটা চাপ আছে। তাঁকে বলা হয়েছে, চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। চাপের কাছে নতি স্বীকার করে কোনো কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না। আমি যতক্ষণ ভিসি আছি, আমার জীবন দিয়ে প্রকৌশলীকে রক্ষা করব। প্রকৌশলী যদি আমাকে জানান কারা চাপ দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেব।’

গত বছরের ১৫ অক্টোবর ‘মেগা প্রকল্পের চাপে অব্যাহতির আবেদন প্রকৌশলীর’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0