'ও যে মানে না মানা'

বিজ্ঞাপন
default-image


সন্ধ্যা হয় হয়। মানুষের ভিড় কমে না। রাজশাহীতে পদ্মা নদীর টি গ্রোয়েন থেকে বিনোদনপিয়াসীরা এক পা নড়ছেন না। তারা ভুলে গেছেন সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিতে শুরু করলেন। যে যেখানে আছেন। এই মুহূর্তে নদীর ধার ছেড়ে চলে যাবেন।

পানাপুকুরে ঢিল ছুড়লে যেভাবে খানিকটা জায়গার পানা সরে যায়। পানির ঢেউ থেমে যেতেই আবার ফাঁকা জায়গাটা পানায় ভরে যায়। হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে পদ্মা নদীর বাঁধ থেকে মানুষ সারানোর ব্যাপারটিও সেই রকম হলো। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এবার লাঠি নিয়ে তাড়া শুরু করলেন। যেদিকে পুলিশ যায়, সেদিকে ফাঁকা হয়। আরেক দিক দিয়ে মানুষ ঢোকে। হতাশ হয়ে মিজানুর রহমান নামের একজন পুলিশ সদস্য বলে উঠলেন, মানুষের সঙ্গে আর কত খারাপ ব্যবহার করা যায়।

এই পথে ফিরছিলেন রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমির সংস্কৃতি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সরকার। মানুষের এই বেপরোয়া ভাব দেখে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে এসে গেয়ে উঠলেন ‘ও যে মানে না মানা।’

সত্যিই কেউ মানা শুনলেন না। রাজশাহী পুলিশ লাইনস এর বিপরীত পাশের পদ্মা নদীর ধারের বড় বটগাছের তলাটা পুলিশ কিছুতেই ফাঁকা করতে পারল না। দিনের আলো প্রায় ফুরিয়ে এল তবু সেখানে মানুষ ছুটে যেতেই থাকল। নদীর পানির কাছে গিয়ে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সেলফি তোলায় কেউ পিছিয়ে থাকেছেন না। এই দৃশ্য দেখে হতাশ হয়ে পুলিশ বাঁধের ওপর থেকে নেমে এল।

গতকাল সোমাবার ঈদের দিন সারা দিনই মানুষের ভিড় সারা শহরেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। বিশেষ করে বিকেলের দিকে পদ্মা নদীর ধারের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বেলা কিছুটা পড়ে এলে নদীর পাড় সংলগ্ন নগরের মুন্নুজান স্কুল মাঠ থেকে লোকজনকে দৌড়ে কুমার পাড়ার রাস্তা দিয়ে স্রোতের মতো বের হয়ে আসতে দেখা যায়। বোঝা গেল পেছনে কিছু একটা ঘটেছে। গিয়ে দেখা গেল, পুলিশ লাঠি নিয়ে মাঠ খালি করার জন্য তেড়ে ফিরছেন। আরেকজন পুলিশ সদস্য হ্যান্ডমাইকে সবাইকে দ্রুত মাঠ ছাড়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন।

এরপর বড় কুঠি এলাকায় গিয়ে একই দৃশ্য দেখা গেল। অডভার মুন্সগার্ড পার্ক থেকেও মানুষকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। লালনশাহ পার্কের সামনে গিয়ে দেখা গেল, পুলিশের তিন চারখানা গাড়ি দাঁড় করানো। মাইক ধরে পুলিশ মানুষকে সোজা পথে ফিরে যাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিচ্ছেন। বিনোদন ভুলে সেখান থেকে বিমুখ হয়ে ফিরছেন মানুষ। লালন শাহ পার্কে পূর্ব দিকে একটি জটলার ছবি তুলতে দেখে একজন নারী চিৎকার করে উঠলেন, ‘এই ছবি তুলল, পেপারে দিয়ে দেবে। বলবে কেউ সামাজিক দূরত্ব মানছে না।’ এরপর জটলাটা ভেঙে গেল কিন্তু তারা কেউ বাড়ি ফেরার তাগিদ বোধ করলেন না। এরপর সেখানেও পুলিশ হানা দিল।

একই রকম দৃশ্য দেখতে দেখতে নগরের শ্রীরামপুর এলাকায় পুলিশ লাইনের বিপরীত পাশের বটতলায় গিয়ে পুলিশের হতাশার কথা শোনা গেল। একদল যুবক পুলিশের সঙ্গে জেরা করা শুরু করল। পুলিশ সদস্যরা সবাই দৌড়ে এক জায়গায় হলেন। এবার যুবকের দল তর্ক থেকে সরে এল। এই দলটিকে সামনে নিয়ে পুলিশ পিছে পিছে লাঠি নিয়ে হাঁটতে শুরু করল। তারপর বাঁধ থেকে নামার রাস্তার কাছে এসে তাদের নিচে নেমে যেতে বাধ্য করল। যুবকদের দল দেখে মনে হলো পুলিশ তাদের ঈদের সব খুশি মাটি করে দিল। আর পুলিশের অবস্থা দেখেও মনে হলো এই বেপরোয়া মানুষ সামাজিক দূরত্বের কথা ভুলে গিয়ে তাদেরও শান্তি হারাম করে দিচ্ছে। একজন পুলিশ সদস্য বললেন, এই মানুষ নিজে নিজে সচেতন না হলে মেরে ধরে মানুষকে ঠিক করা কঠিন হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন