default-image

‘পালিয়ে যুদ্ধে যাব বলে একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছে কাপড়চোপড় দিয়েছিলাম। বয়স কম বলে আমাকে না জানিয়েই কাপড়চোপড় নিয়ে তিনি চলে যান। আরেকবার চেষ্টা করেও হয়নি। তৃতীয়বারও আমাকে রেখে যাওয়ার পর পেছন থেকে তিন কিলোমিটার পথ দৌড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গী হই। ক্যাম্পে গিয়েই আমার নাম বদলে গেল। আমার নাম রাখা হলো শফিক। কমান্ডার বললেন, যত দিন যুদ্ধ চলবে, তত দিন ওর নাম শফিক।’

আজ সোমবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলার সময় এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন বিশিষ্ট নাট্যকার ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

মলয় ভৌমিক বলেন, ‘যুদ্ধের সময় নানামুখী নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। সেই চিন্তা থেকেই কমান্ডার আমার নাম পাল্টে রেখেছিলেন। আমরা ছিলাম গেরিলা যোদ্ধা। যদি রাজাকার বা আলবদর বাহিনী কোনোভাবে জানতে পারে যে এই দলে একজন সংখ্যালঘু পরিবারের ছেলে আছে, তাহলে দলটির অবস্থান জানতে পাকিস্তানি বাহিনী উঠেপড়ে লাগবে। আবার পরিচয় পেলে পরিবারের ওপরও হামলা হতে পারত।’

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এনায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে ‘বীরের মুখে বিজয়ের কথা’ শীর্ষক আলোচনাসভায় মলয় ভৌমিক তাঁর মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষক সাজু সরদার।

মলয় ভৌমিকের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার কানসোনা গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৫ বছর। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের শৈল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে যোগ দেন তিনি। সেখানেই গেরিলা যোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেন। অনুষ্ঠানে তিনি কয়েকটি অপারেশনের কথা শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে বিভাগের সভাপতি মলয় ভৌমিকের হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0