বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমাদের এ উদ্ভিদ সন্দর্শনে স্বয়ং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য উপস্থিত থাকবেন, ধারণা করিনি। তিনি জানালেন, উদ্ভিদের প্রতি তাঁর বিশেষ পক্ষপাত রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই আমাদের গাছ দেখা শুরু হলো। প্রথমেই চোখে পড়ল বেশ কিছু শ্বেতচন্দন ও রক্তচন্দন। গবেষণা ও প্রদর্শনীর জন্য এ গাছগুলো লাগানো হয়েছে। পাশেই ফলসমেত কয়েকটি দইগোটার গাছ দেখা গেল। সীমানাদেয়াল ঘেঁষে একটি বুনো শিমের ঝাড় বেশ জাঁকিয়ে বসেছে। তাতে ফুল-ফল দুটোই আছে। আরেক পাশে আলোকলতায় ফুল ফুটেছে। একই সারিতে উলটকম্বলের কয়েকটি গাছে বাটির মতো নকশাখচিত ফলের ভেতর শুকনো বীজগুলো দেখা গেল। ১৬০ বিঘা আয়তনের ক্যাম্পাসটির পেছনের অংশে কাজলা নদীর তীর ঘেঁষে আমলকী, হরীতকী আর বহেড়াগাছের সুদীর্ঘ বীথি মন ভরিয়ে দিল।

ভেতরে আরও ঘুরেফিরে বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑকর্পূর, রক্তচন্দন, আগর, নিশিন্দা, গোলমরিচ, তেজপাতা, লবঙ্গ, দারুচিনি, ইন্দোনেশিয়ান জিনসেং, ধূপ, গন্ধভাদুলী, পুনর্নবা, চাপালিশ, জায়ফল, মহেশখালীর পান, কুরচি, রিঠা, নাগলিঙ্গম, মাধবী, আলুবোখারা, অশ্বগন্ধা, গুরমার, চুইঝাল, খাসিয়াপান, গাইনুরা, কনকচাঁপা, পিচফল ইত্যাদি। দুটি গোলাপবাগানে রয়েছে অন্তত ৪০ প্রজাতির সুদৃশ্য গোলাপ।

default-image

এসব উদ্ভিদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান জিনসেং এবং গুরমারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি আবশ্যক। লতানো উদ্ভিদ গুরমার ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডায়াবেটিসের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া উদ্ভিদটির আরও বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়। গুরমার আরব উপদ্বীপসহ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার বহুবর্ষজীবী কাষ্ঠললতার গাছ। হিন্দি গুরমার শব্দের অর্থ ‘সুগার ধ্বংসকারী’। ক্যান্ডি, মাউথওয়াশ বা চা হিসেবে পান করা এর পাতার নির্যাস মিষ্টি খাবার এবং সামগ্রিক ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ হ্রাস করে। এ নির্যাস উচ্চ চিনিযুক্ত খাবারের আকাঙ্ক্ষা এবং মিছরির মনোরম স্বাদকে হ্রাস করে। গবেষণার তথ্যমতে, গুরমারের নির্যাস চিনির লোভ কমায়। জাপানে ওজন কমানোর জন্য বছরে ৫০ টন গুরমার পাতা খাওয়া হয়।

ইন্দোনেশিয়ান জিনসেং একটি রসাল কাণ্ডের গুল্ম, যা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশির ভাগ অঞ্চল এবং ক্যারিবীয় দেশগুলোর স্থানীয় উদ্ভিদ। এটি সাধারণত ফেমফ্লাওয়ার নামেও পরিচিত। আলংকারিক উদ্ভিদ হিসেবেও এ গাছ ব্যবহৃত হয়। এ গাছের পাতাগুলো ভোজ্য এবং এশিয়ায় ঐতিহ্যগতভাবে নানান ওষুধে ব্যবহার্য। এ ছাড়া ডায়াবেটিস নিরাময় এবং অ্যান্টি-ইনফেকটিভ হিসেবেও এ গাছ কাজে লাগে।

একদিকে নাম ‘হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়’, অন্যদিকে ক্যাম্পাসে বিচিত্র উদ্ভিদের বিপুল উপস্থিতি; ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শুধু আয়ুর্বেদ বিষয়েই পড়ানো হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা হামদর্দ ল্যাবরেটরিজের (ওয়াক্ফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া জানালেন, এখানে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিসিনে স্নাতকসহ পাঁচটি অনুষদের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ১০টি বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন