বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নাচনাপাড়া ইউনিয়নের মো. মামুন বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের পাশে হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম শিকার আমরা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অতিবৃষ্টি লেগেই থাকে। তাই কোনো আবাদই ঠিকমতো হচ্ছে না এখন। অথচ একসময় বরগুনাকে বাংলাদেশের শস্যভান্ডার বলা হতো। জোয়ারের পানিতে বীজতলা নষ্ট হয় অথবা ধান। কারও কারও ১০-১৫ বিঘা ধানের জমি এখনো পানির নিচে।’ তিনি বলেন, প্রতি বিঘায় দুই হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেছেন কেউ কেউ। এখন যদি ধান না হয়, তাহলে জমির ভাড়ার টাকা দেবেন কীভাবে তাঁরা। সরকার থেকে সার-কীটনাশক মেলে না। ধানের জমি থেকে পানি সরে গেলে পোকামাকড়ের উৎপাত বেড়ে যাবে। তখন যদি সার–সহায়তা পাওয়া যেত, তাহলে কৃষকদের উপকার হতো।

default-image

নাচনাপাড়ার কলেজছাত্র গোলাম রাব্বী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যস্ত এ জনপদে সরকারি সহায়তা তেমন পৌঁছায় না। এখানে সরকারি সহায়তা বলতে শুধু রেশন কার্ড আর বয়স্ক ভাতা। সেগুলো নিতে গিয়েও অনেক ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় সিডরের মতো ভয়াল ঘূর্ণিঝড় দেখেছি। তাতেই কিছুটা উপলব্ধি হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কী নির্মম পরিণতি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। সিডরে সব রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়েছিল। পুরোপুরি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ছিলাম আমরা। কোনো গাড়ি ঢোকার মতো অবস্থা ছিল না।’

ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ শেষে পাথরঘাটার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা আটকে থাকা পানি বলে জানান গোলাম রাব্বী। তিনি বলেন, পানি যেন আটকে না থাকে, সে জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ দরকার। পানি চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে। বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপও স্থাপন করা জরুরি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর বরগুনায় ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ জন্য ৮ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়। কিন্তু টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় গত আগস্টে ৫ হাজার ৮১০ হেক্টর জমির বীজ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এ ছাড়া ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির বীজতলা সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন