default-image

ঘূর্ণিঝড় ফণীর কবল থেকে নিরাপত্তার লক্ষ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় জেলাগুলোর ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব শাহ কামাল। সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঘূর্ণিঝড় ফণীর সর্বশেষ অবস্থান ও প্রস্তুতি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

শাহ কামাল বলেন, ‘আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৫ জনকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা হচ্ছে ৪ হাজার ৭১ টি। তবে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পূর্বেই ১৫ থেকে ১৮ লাখ মানুষকে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে পারব।’
এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে শাহ কামাল জানান, ‘দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ লাখ ৪ হাজার ২৫০ জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে সারা দেশের আকাশ মেঘলা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। আজ শুক্রবার মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় আগের তুলনায় অনেকটা দুর্বল হয়ে আঘাত হানবে। দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ২০০ কিলোমিটার বেগে ভারতের ওডিশায় আছড়ে পড়ে ফণী। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এরপর সেটি পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে দক্ষিণবঙ্গের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে পারে। এ কারণে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর, চট্টগ্রাম বন্দরে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সামছুদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর থেকে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া হবে। আজ শুক্রবার সারা রাত এবং শনিবার সারা দিন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকতে পারে। বাংলাদেশে যখন আঘাত হানবে, তখন বাতাসের গতিবেগ ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, ‘দুর্যোগ পরিস্থিতির জন্য যে প্রস্তুতি আছে, আশা করি আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব। কোনো প্রাণহানি হবে না বলে আমাদের প্রত্যাশা।’

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রধান তথ্য অফিসার জয়নাল আবেদিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন