বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উদ্যানটির বর্তমান পরিচালক জাহিদ মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা উদ্যানটিকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে একটি মহাপরিকল্পনা করেছি। এ জন্য সরকারের অর্থায়নের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করছি। উদ্যানের ভেতরে অনেক মূল্যবান উদ্ভিদ আছে, সেগুলো রক্ষায় তারকাঁটা ও দেয়াল দেওয়া হয়েছে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একে ঢেলে সাজানো সম্ভব হবে।’

উদ্যানের শেষ সীমানায় নির্মাণ করা হয়েছে পরিচালকের কার্যালয়। চারপাশে প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার দেয়াল। তার ওপরে আবার কাঁটাতারের প্যাঁচানো লোহার তার। পার্কের শেষ সীমানার দুটি পুকুরের মধ্যে দেখা গেল দুই স্তরের পাকা সীমানাদেয়াল।

দেশের শীর্ষস্থানীয় উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নামে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান হলেও জায়গাটি আসলে একটি বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অথচ বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে উদ্ভিদ উদ্যান বলতে বোঝানো হয় সেই দেশের প্রধান উদ্ভিদগুলোর একটি সংরক্ষণাগার। এসব উদ্ভিদ মূলত শিক্ষা ও গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়।

২০২১ সালে উদ্যানটিতে প্রবেশের টিকিট বিক্রির জন্য ইজারা দিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় করা হয়েছে। আর প্রায় ২০ লাখ পর্যটক সেখানে গেছেন। প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত দর্শনার্থী সেখানে প্রবেশ করেন। বনভোজন থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র ও নাটকের শুটিং সবই হয় এখানে। চলচ্চিত্রের জন্য ১২ হাজার ও নাটকের জন্য ৫ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হয়।

বিশ্বের কোথাও উদ্ভিদ উদ্যানে এত কংক্রিটের অবকাঠামো থাকে না। এত দর্শনার্থীকেও যেতে দেওয়া হয় না। মূলত গবেষণা এবং উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণের কাজে এসব উদ্যান নির্মাণ করা হয়।
ড. রেজা খান, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ

সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হার্বেরিয়ামের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বৃক্ষ, লতাগুল্ম ও জলজ উদ্ভিদ মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। যার মাত্র ১ হাজার ১০টি এ উদ্যানে আছে। তা–ও গোলাপ, অর্কিড ও ক্যাকটাস ছাড়া অন্য কোনো উদ্ভিদ সেখানে শ্রেণিবদ্ধ ও সংরক্ষিত অবস্থায় নেই। দেশের উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের সবচেয়ে বড় ওই সংরক্ষণাগারটিতে গত চার বছরে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে একের পর এক দেয়াল, পাকা ও কংক্রিটের অবকাঠামো। পর্যটকদের জন্য ওয়াচ টাওয়ার, পুকুরের পাড়গুলো দুই স্তরে পাকা করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ৫০–এর বেশি বসার কংক্রিটের বেঞ্চ।

এ ব্যাপারে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ ড. রেজা খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় উদ্যানটিতে প্রবেশ করলে মনে হবে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা কোনো বিনোদনকেন্দ্র। বিশ্বের কোথাও উদ্ভিদ উদ্যানে এত কংক্রিটের অবকাঠামো থাকে না। এত দর্শনার্থীকেও যেতে দেওয়া হয় না। মূলত গবেষণা এবং উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণের কাজে এসব উদ্যান নির্মাণ করা হয়। একটি দেশে যত প্রজাতির উদ্ভিদ আছে, তার প্রায় সব কটি সেখানে সংরক্ষণ করা হয়। আমাদের এখানে কত প্রজাতির উদ্ভিদ আছে, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকাও আছে বলে আমার জানা নেই।’

জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উদ্যানটিতে বিভিন্ন আকারের মোট সাতটি জলাশয় রয়েছে। একটি জলাশয়ের পাশে রয়েছে কৃত্রিম জলপ্রপাত ও লেক। একসময় শীতকালে বড় জলাশয়গুলোতে হাঁসজাতীয় পরিযায়ী পাখিরা আসত। পর্যটকদের উৎপাত ও পানি দূষিত হয়ে যাওয়ায় এখন আর এই পাখিরা এখানে আসে না।

আজ বিশ্ব ধরিত্রী দিবস। ১৯৭০ সাল থেকে পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষায় দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের দিবসটির স্লোগান, ‘ধরিত্রী রক্ষায় বিনিয়োগ করো।’

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন