বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব কয়লা তৈরির কারখানায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। জনবসতি এলাকা ও ফসলি জমি নষ্ট করে এসব চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। লাল মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করা চুল্লিতে প্রতিদিন কয়েক শ মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন বাসিন্দারা জানান, কালিয়াকৈর ও মির্জাপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় ওই চুল্লি বসিয়ে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। সেখান থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় আশপাশ আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এই ব্যবসা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (এইএনও) মৌখিকভাবে জানালেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। প্রভাবশালীদের ভয়ে এলাকায় প্রতিবাদ করা যাচ্ছে না।

টালাবহ গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, চুল্লিতে কাঠ পোড়ানোয় সৃষ্টি হচ্ছে ধোঁয়ার। রাস্তার পাশ দিয়ে চলাচল করার সময় চোখ জ্বালাপোড়া করে। গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। অনেকেই অসুস্থ হচ্ছেন।

গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, চুল্লির মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে একটি মুখ খোলা রেখে অন্য মুখগুলো মাটি ও ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খোলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয় চুল্লিতে। আগুন দেওয়া শেষ হলে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন পোড়ানোর পর চুলা থেকে কয়লা বের করা হয়। প্রতিটি চুল্লিতে প্রতিবার ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। পরে এই কয়লা শীতল করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন ইটভাটার মালিকেরা এই কয়লার বড় অংশের ক্রেতা বলে জানা গেছে।

আলতাফ হোসেন নামে এক স্কুলশিক্ষক বলেন, এসব কয়লা কারখানার জন্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সারা দিন ধোঁয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ কিছু বলার সাহস পান না।

ইউএনও তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, ‘এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই অবৈধ কয়লার কারখানা বন্ধসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন