বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেদিনের সেই মায়াবী নদীর তীরে হেঁটে চলা পথে আমাকে অভিভূত করেছিল এসব দৃশ্য এবং এক বন ফুলের নীল রং। সবুজ পাতার সঙ্গে সজীব ও গাঢ় নীল ফুলের মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম কিছুক্ষণ। ফুলের গঠন দেখতে কোন নারীর কানে পরা অলংকারের মতো। লোকে তাই নাম দিয়েছে কানদুলি, কানছিঁড়া, কানাইবাঁশি। বাংলাদেশের পথে–প্রান্তরে, জলাশয়ের কিনারে, সমতলে, ধানখেতের আইলে, পাহাড়ে সাত প্রজাতির কানাইবাঁশি দেখা যায়। ফুলের গঠনশৈলী দেখতে প্রায় একই রকম। তবে প্রজাতিগুলোর পাতা ও ফুলের সাইজের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একটি প্রজাতি ঢোল পাতা নামেও পরিচিত। পাতার আকৃতি ঢোলের মতো, তাই এ নাম। কয়েকটি প্রজাতি সহজলভ্য যেমন কমেলিনা বেঙ্গেলেনসিস, কমেলিনা ডিফুজা এবং কমেলিনা ইরেকটা। প্রতিটি প্রজাতির ফুলে রং নীল এবং প্রায় সারা বছরই ফুল ফোটে।

দেশে এত এত বনফুলের প্রজাতি রয়েছে, যা দিয়ে আমরা সাজাতে পারি আমাদের বাড়ির অঙ্গন, বারান্দার টব, পথের দুপাশ। কানাইবাঁশির প্রতিটি প্রজাতিই শোভাবর্ধনকারী ফুল হিসেবে মানানসই। এরা মাটিতে বেয়ে বেয়ে বেড়ে ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ধূসর মাঠকে সবুজে পরিণত করে।

কানাইবাঁশি বর্ষজীবী বীরুৎ। শাখা–প্রশাখা বিস্তৃত। কাণ্ডে পর্ব ও মধ্যপর্ব থাকে। প্রজাতিভেদে লম্বার তারতম্য রয়েছে তবে ৪০ সেন্টিমিটার বা ততোধিক হতে পারে। অনেকে কয়েকটি প্রজাতির পাতা ও কচি কাণ্ড সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে। প্রজাতিগুলোর পাতায় অ্যান্টিসেপটিক গুণ রয়েছে, যা ক্ষত নিরাময়ে কাজ করে। চীনে ফুল থেকে প্রাপ্ত রং চিত্রকর্ম আঁকতে ব্যবহার করা হয়। এ ফুলের সাধারণ ইংরেজি নাম ডে ফ্লাওয়ার।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন