default-image

কালবৈশাখী চেনা ঝড়। তবে জোড়া কালবৈশাখী, রাতে আঘাত, অতিরিক্ত শক্তি ও বারবার হানা—এসব ঝড়টিকে অচেনা করে তুলছে। ঘটছে মৃত্যুর ঘটনা, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতি।

বৈশাখে কালবৈশাখী হবে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত ক্যালেন্ডার দেখে চলে না। তার মেজাজ-মর্জি নির্ভর করে তাপ-উত্তাপের ওপর।

ফাল্গুন–চৈত্রেও কালবৈশাখী আগাম জানান দিতে পারে। শীত–বসন্তের শেষে ধেয়ে আসা এই ঝড় সম্পর্কে আবহাওয়াবিদদের ব্যাখ্যা হচ্ছে, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাগরের আর্দ্র বাতাস স্থলভাগে চলে আসে। সাধারণত তিন ধরনের বাতাস একীভূত হয়ে কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। সাগরের আর্দ্র বাতাসের সঙ্গে অপেক্ষাকৃত পুবালি বাতাস এবং স্থলভাগের বাতাস একসঙ্গে হলে তা বজ্রমেঘের সৃষ্টি করে। পরে তা চাপ আকারে নিচে নেমে এসে প্রচণ্ড ঝড়ে সবকিছু তছনছ করে দেয়।

তবে কালবৈশাখী জানান দিয়েই আসে। ঈষাণ কোণে (উত্তর-পশ্চিম কোণ) ইশারা দেয় কালবৈশাখী। সেখানে জমা হওয়া কালোমেঘ এই ঝড়ের আভাস।

বিজ্ঞাপন

কতক্ষণের ঝড়, গতি কত

কালবৈশাখীর স্থায়িত্ব ক্ষণিকের। ঝড় তৈরি হয়ে পূর্ণতা পাওয়ার পর ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এর সর্বোচ্চ তীব্রতা থাকতে পারে। তারপর ধীরে ধীরে তার গতি কমে যায়। তবে সব সময় যে সে একই ছকে চলে, তা হলফ করে বলা যাবে না। কখনো কখনো কালবৈশাখীর দম এক ঘণ্টার বেশি সময় থাকতে পারে।

কালবৈশাখীর বায়ুর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। তবে কখনো কখনো এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশিও হতে পারে। কালবৈশাখীর সময় অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়। বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত, অতি দ্রুত হারে তাপমাত্রা কমে যাওয়া আর শিল পড়া কালবৈশাখীর সাধারণ ঘটনা।

চলতি বছরের প্রথম কালবৈশাখী এসেছিল গত ১৩ মার্চ বিকেলে। সেদিন তার গতি ছিল ঘণ্টায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার। গত বছর সবচেয়ে বেশি গতির কালবৈশাখী আঘাত হেনেছিল ২৭ মে, ২০২০। ঝড়ের গতি ছিল ঘণ্টায় ৭৮ থেকে ৮৩ কিলোমিটার। তার আগের বছর ২০১৯ সালে ঢাকা মহানগর দুই দফায় মারাত্মক কালবৈশাখীর শিকার হয়। প্রথমটা ছিল ৩১ মার্চ, রোববার। ঝড়ের সময় ঢাকায় ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭৪ কিলোমিটার। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাতটা পর্যন্ত এই এক ঘণ্টায় রাজধানীতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অন্তত ২৫টি স্থানে গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটে। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় ঝড়টি আঘাত হানে ১৭ মে। তার গতিও ছিল ৭০ কিলোমিটারের কাছাকাছি।

তবে বিগত চার বছরের মধ্যে কালবৈশাখীর সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যায় ২০১৮ সালে। ওই বছরের এক এপ্রিল মাসেই ঢাকাসহ সারা দেশে দুটি বড় গতির ঝড় আঘাত হানে। প্রথমটি ২২ এপ্রিল, তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটারের বেশি। দ্বিতীয়টি ২৯ এপ্রিল, ওই দিন বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৬ কিলোমিটার। ২০১৮ সালে আবহাওয়া অধিদপ্তর বেশ উদ্বেগের সঙ্গেই জানিয়েছিল, কালবৈশাখীর সংখ্যা বেড়েছে। একই অনুপাতে বেড়েছে শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাতের সংখ্যা। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতেই কয়েক স্থানে কালবৈশাখীতে মোট ১৪ জন মারা যান।

সেই বছরের (২০১৮) ১৭ এপ্রিল কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় এক অভূতপূর্ব কালবৈশাখীর ছোবলে মুহূর্তে ১৭টি প্রাণ ঝরে যায়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া সাতটার পরই দুই দফায় কালবৈশাখী ঝড় আছড়ে পড়ে। প্রথমটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৪ কিলোমিটার, পরেরটি ঘণ্টায় ৯৮ কিলোমিটার। দ্বিতীয় ঝড়টি ছিল সর্বোচ্চ গতিবেগের। সংবাদমাধ্যমে তখন এটাকে জোড়া ঝড় বলা হয়েছিল। অতীতে এ রকম জোড়া কালবৈশাখীর ঘটনা খুব একটা নেই।

দিনের কোন সময় আঘাত হানে

সাধারণত কালবৈশাখী আঘাত হানে বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে। তবে গত বছরের ২৭ মের ঝড়টি এসেছিল ভোর রাতে। এই ঝড় আঘাত হানে বুধবার ভোররাত বা ২৬ মে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে। কালবৈশাখীর সনাতন ক্ষণ এটা নয়।

একইভাবে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল কালবৈশাখী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় সকাল সাড়ে আটটায়
আঘাত হানে। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৬ কিলোমিটার। গত বছরের ৬ মে কলকাতায় কালবৈশাখী আঘাত হানে রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে। ৭১ কিলোমিটার গতির ওই ঝড় শেষ হয় তিন মিনিট পরই। যদিও সামান্য সময়ের ওই ঝড়ের আঘাত সামলাতে হিমশিম খেতে হয় করোনায় আক্রান্ত শহর কলকাতাকে।

কালবৈশাখীর রূপ কি বদলাচ্ছে

জোড়া কালবৈশাখী, রাতের কালবৈশাখী, অতিরিক্ত শক্তির কালবৈশাখী ও কালবৈশাখীর পুনরাবৃত্তির বাড়তি হার—এসবই ক্রমশ কালবৈশাখীকে অচেনা করে তুলছে।

২০১৮ সালে কালবৈশাখীর তাণ্ডব দেখে তাজ্জব হয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা তখন জানিয়েছিল, রেকর্ড অনুযায়ী গত ৪০ বছরে এত ঘন ঘন তীব্রমাত্রার কালবৈশাখী আঘাত হানেনি। ঝোড়ো হাওয়ার এই তীব্রতা অস্বাভাবিক ঘটনা। সেই সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়ছে, বজ্রপাতও হচ্ছে অনেক।

আবহাওয়াবিদদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় কালবৈশাখীসহ শিলাবৃষ্টি ও বজ্রপাত বেড়ে গেছে। পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় না থাকায় কালবৈশাখীর ধরন পাল্টাতে শুরু করেছে।

গ্রীষ্মকালীন ঝড়ের হঠাৎ শক্তিবৃদ্ধি ও বিধ্বংসী হয়ে ওঠার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে। কয়েক বছর আগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, রূপান্তরিত কালবৈশাখী ক্রমশ ভারতের পূর্বাঞ্চল এবং বাংলাদেশের জনজীবন ও জীবিকা বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী কালবৈশাখী শক্তির দিক থেকে দিন দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হরহামেশা আঘাত হানা টর্নেডোর মতো হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই কালবৈশাখী এখন দ্রুতগতির ও ধ্বংসাত্মক দুর্যোগের চেহারা নিচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে সেই চেহারা আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা মনে করে।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে খুব সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়, ‘এখন কালবৈশাখীর কালে ঢাকা, যশোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও চাঁদপুর অঞ্চলে টর্নেডোর আশঙ্কা বাড়ছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। এখানে যোগাযোগব্যবস্থা ও পরিবহন-সুবিধা অপ্রতুল। ফলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ দেশের মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।’

বিজ্ঞাপন

আমাদের টর্নেডোর অভিজ্ঞতা

দেশে গত ৩০ বছরে কমপক্ষে তিনটি ভয়াবহ টর্নেডোর দুঃখজনক অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। ২০১৩ সালের ২২ মার্চ বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার তিনটি ও আখাউড়ার একটি, মোট চারটি ইউনিয়নে বিধ্বংসী এক টর্নেডোর আঘাতে অন্তত ৩১ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

১৯৯৬ সালের ১৩ মে সোমবার বিকেল পাঁচটায় টাঙ্গাইল জেলার বাসাইলের মিরিকপুরে স্মরণকালের ভয়াবহ টর্নেডো আঘাত হানে। এটি বাসাইলবাসীর কাছে মিরিকপুরের ঝড় নামে পরিচিত। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৩৭ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। টর্নেডোর আঘাত এমন ভয়ংকর ছিল যে বিদ্যুতের খুঁটি, নলকূপের ওপরের অংশ, দালানের ছাদ পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যায়। জ্যৈষ্ঠ মাসে ধান কাটার মৌসুম থাকায় উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার শ্রমিকেরা জড়ো হয়েছিলেন ওই অঞ্চলে। মাঠের আতঙ্কগ্রস্ত বহু শ্রমিক মিরিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ভবনটি বিধ্বস্ত হওয়ায় তাঁরা সেখানেই চাপা পড়ে মারা যান। উপদ্রুত এলাকার গ্রামের বহু মানুষ নিখোঁজ হন। পরের দিন তাঁদের মৃতদেহের খোঁজ পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী নদী, পুকুর, খাল ও বিলে।

মিরিকপুরের চেয়েও ভয়াবহ টর্নেডো আঘাত হেনেছিল মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায়, ১৯৮৯ সালে। ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যার আগে সেই মর্মান্তিক টর্নেডোতে নিহত হন ১ হাজার ৩০০ জন। আহত হয়েছিলেন ১২ হাজার মানুষ। তাঁদের অনেকেরই হাত-পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

উপায় কী

এপ্রিল-মে মাসে আবহাওয়া সাধারণত উষ্ণ থাকে। এ সময় বজ্রপাতসহ ঝড়ের অনুকূল পরিবেশও তৈরি হয়। অনেক আবহাওয়াবিদ মনে করেন, উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে কালবৈশাখীর আভাস পেলেই ঘণ্টাখানেকের জন্য আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

কয়েক বছরের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কালবৈশাখীতে বেশির ভাগ মানুষ নিহত হন গাছ চাপা পড়ে। শহর-গ্রাম উভয় স্থানেই সেটা প্রধান কারণ। নগরে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হচ্ছে নির্মাণাধীন ইমারত থেকে ইট বা ভারী কিছু পড়ে তার আঘাতে মৃত্যু। পশ্চিমবঙ্গে ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের জাত/প্রকৃতি বিশ্লেষণমূলক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে গাছ পড়ে যায় তা নগর বা লোকালয়ের উপযুক্ত নয়, অথবা সেগুলো বিদেশি গাছ।

আফ্রিকার মাদাগাসকার থেকে নিয়ে আসা গুলমহর, যা আমরা কৃষ্ণচূড়া হিসেবে চিনি, ৭০ কিলোমিটারের বেশি গতির ঝড় হলেই তার প্রাণসংশয় দেখা দেয়। পাহাড়ের গাছ চম্বল, যা চা-বাগানে শেডট্রি বা ছায়া বৃক্ষ হিসেবে লাগানো হয়, সেগুলোও ঝড়ে টেকে না। এ ছাড়া ফুটপাতে লাগানো গাছের শিকড় কাটতে কাটতে তার টিকে থাকার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়।

২০১৮ সালে কৃষ্ণচূড়াগাছের নিচে চাপা পড়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) একজন প্রকৌশলী মৃত্যুবরণ করেন। ২০১৬ সালে ধানমন্ডি এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে একজন চলচ্চিত্রনির্মাতা ও শিল্পী প্রাণ হারান। ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর রংপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কৃষ্ণচূড়াগাছের নিচে পড়ে আহত হন ছয়জন। বছর কয়েক আগে প্রচণ্ড বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হলে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী এলাকায় ইউসুফ আলীর চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন মতি হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। এ সময় সড়কের পাশে থাকা একটি কৃষ্ণচূড়াগাছ উপড়ে ওই চায়ের দোকানের ওপর পড়ে। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মতি হাওলাদার মারা যান। এ সময় আহত হন অনেকেই।

এই তালিকা অনেক দীর্ঘ। গাছ লাগানোর সঙ্গে সঙ্গে তার উপযুক্ততা ও রক্ষণাবেক্ষণের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। বিভিন্ন সড়ক ও পার্কে মোট কতগুলো গাছ নড়বড়ে হয়ে গেছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিয়মিত হালনাগাদ করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে গোটা গাছ কিংবা গাছের ডাল ভেঙে প্রাণহানি রোধে আমাদের আন্তরিক হতে হবে।

বহুতল ভবন নির্মাণে ব্যস্ত ডেভেলপাররা একটু সতর্ক হলেই তাঁদের নির্মাণাধীন ইমারত থেকে ইট-কাঠ পড়ে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা রোধ করা সম্ভব। তাদের বেখেয়ালের দায়ে নিহতদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নগরপিতারা না করলে কে করবে?

ক্ষতিপূরণ কোনো দিন পাবেন কি

পাঠকেরা নিশ্চয়ই জানেন, ২০১৯ সালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্মাণাধীন মল্লিক কমপ্লেক্স থেকে ইট পড়ে নিচে থাকা মো. হানিফ (৪৫) নামের এক চা-দোকানির মৃত্যু হয়। মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি ভবন থেকে পড়া ইটের আঘাতে মারা যান দুলাল (৪০) নামের এক গাড়িচালক। হাসান নামের আরেকজন মাথায় ইট পড়ে নিহত হন কদমতলীতে। এঁদের পরিবারের কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি, কোনো দিন পাবেন কি?

নগরের পার্কে ৫টা বেগুন, ১০টা ক্যাপসিকাম নিয়ে বসা নারী বিক্রেতাকে লাঠিপেটা করার কোতোয়াল আছে গন্ডায় গন্ডায়, কিন্তু মাথার
ওপর বাতাসে ঝুলতে থাকা লাইটপোস্টের বাতিটা ঠিক করার লোক নেই। ওটা হঠাৎ ঝড়ে কার ঘাড়ে পড়বে কে জানে। ঝড়ের কাছে কোতোয়াল জমাদার ফারাক নাই।

● লেখক: গবেষক [email protected]

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন