default-image

প্রবেশপথের এক পাশে ছিল উঁচু কদমগাছ। গাছটির পাশাপাশি আরও কয়েকটি গাছ। কদমগাছটি হঠাৎ কেটে ফেলা হয়। খবর পেয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনের কয়েকজন সদস্য সেখানে পৌঁছান। তখন সিটি করপোরেশনের নির্দেশে গাছ কাটা হয়েছে জানিয়ে দ্রুত অপসারণ করা হয় কাটা গাছটি। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। শহীদ মিনারের প্রবেশপথের সবচেয়ে উঁচু কদমগাছটি কেটে ফেলা হয়। এভাবে গাছ কাটায় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়েই তাৎক্ষণিক কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন ‘ভূমিসন্তান বাংলাদেশ’ নামের পরিবেশবাদী সংগঠনের কর্মীরা। তাঁরা আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ কর্মসূচি পালন করবেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবস্থান সিলেট নগরীর কেন্দ্রস্থলের জিন্দাবাজার-চৌহাট্টা এলাকায়। ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ‘তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে একটি মিছিল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ভাঙচুর করা হয়েছিল। এরপর নতুন রূপে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। পুনর্নির্মিত শহীদ মিনারের মূল স্থাপত্যে সবুজ টিলাভূমির আদল। এর নকশা করেছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের অধ্যাপক শুভজিৎ চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উদ্যোগে সিলেট সিটি করপোরেশন তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এ শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণ করে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে এর বিশেষ সংস্কারকাজ শুরু করে সিলেট সিটি করপোরেশন। সংস্কারকাজ করোনা পরিস্থিতির জন্য একটানা প্রায় আট মাস বিরতি দিয়ে সম্প্রতি আবার শুরু হয়। এরপর গতকাল বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ কদমগাছটি কাটা হয়।

ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক মোহাম্মদ আশরাফুল কবীর জানান, গাছটি কেটে যখন ফালি ফালি করা হচ্ছিল, তখন তাঁরা সেখানে গিয়ে গাছ কাটার কারণ জানতে চান। ওই সময় সংশ্লিষ্ট লোকজন সিটি করপোরেশনের নির্দেশে গাছ কাটা হয়েছে জানিয়ে কাটা গাছের টুকরা দ্রুত সরিয়ে ফেলেন। তবে প্রকৌশল বিভাগে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করে শহীদ মিনারে গাছ কাটার নির্দেশনার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘ উন্নয়নের নামে পরিবেশবিধ্বংসী কাজ বন্ধ করতেই আমরা পরিবেশকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে শহীদ মিনারে বসেই প্রতিবাদ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।’

শহীদ মিনারের সংস্কারকাজটি সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের তদারকিতে হচ্ছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর। গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ মিনার এলাকায় তো একটি গাছও কাটার কথা নয়। কারা, কেন গাছ কেটেছে, আমি জানিও না।’

মন্তব্য করুন