খুলনা-সাতক্ষীরায় মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে

বিজ্ঞাপন
default-image

খুলনা ও সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর কারণে অনেক এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মাছের ঘের ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে। রাস্তায় হাজার হাজার গাছ উপড়ে পড়ে রয়েছে। কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে। এলাকাগুলো বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। তবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এখনো সেখানে ঝোড়ো হাওয়া ও প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছে। খুলনা ও সাতক্ষীরার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার মধ্যরাতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে প্রথম আঘাত হানে।

খুলনা
খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, সুন্দরবন এবং পার্শ্ববতী উপজেলা কয়রা, দাকোপে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানে। তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে খুলনার শহরের দিকে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে আঘাত হানে। তখন বাতাসের গতিবেগ ছিল ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। সকাল আটটার দিকে ঝড়ের কেন্দ্র ছিল খুলনা ও সাতক্ষীরা। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে খুলনা আবহাওয়া অধিদপ্তর।

দাকোপ উপজেলার ঝড় নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের বলেছেন, রাত একটার দিকে সেখানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। বাতাসের বেগ বাড়তে থাকে রাত তিনটার দিকে। বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বেশ কিছু কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে। আর গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাছের ঘের তলিয়ে গেছে।

কয়রা উপজেলা নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাফর রানা বলেছেন, ওই এলাকায় ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। বাতাসের গতিবেগ এত বেশি ছিল যে, লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন। রাস্তা ও চিংড়ি ঘের পানিতে ডুবে একাকার হয়ে গেছে। রাস্তার ওপর গাছ পড়ে আছে। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টি রয়েছে। বিদ্যুৎ নেই কোথাও।

সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরায় রাত ১২ টার দিকে ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ জুলফিকার আলী জানান, ঘূর্ণিঝড়টি সাতক্ষীরার সুন্দরবন অঞ্চল অতিক্রম করেছে সকাল ছয়টায়। এর রেশ ছিল সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত।

জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, বুলবুলের প্রভাবে সাতক্ষীরার গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়ি গোয়ালিনী ও মুন্সিগঞ্জসহ কয়েকটি ইউনিয়নের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ কাঁচা ঘর বাড়ি ধসে পড়েছে। কয়েক হাজার গাছপালা উপড়ে পড়ে সাতক্ষীরা সদরের সঙ্গে শ্যামনগর উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ে পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। চিংড়ি ঘের ও সড়ক পানিতে তলিয়ে একাকার হয়ে গেছে। গাবুরা ও পদ্মপুকুরের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। মানুষজন আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। কোনো প্রাণহানির খবর নেই বলে তিনি জানান।

তবে গাবুরা ইউনিয়নের স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই ইউনিয়নের চকবারা গ্রামের আবুল কালাম সরদার (৬০) নামে এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি ঝড়ের কারণে ওই গ্রামেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন