বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত মাসে দেখা অন্য প্রজাতিটি হলো ছোট লেজ সেয়ারওয়াটার, যা এর আগে ২০০৮ সালে সেন্ট মার্টিন ও ২০১৭ সালে পাওয়া গিয়েছিল কক্সবাজারে। গভীর সাগরের এই পাখি প্রথমবার দেখা গেল ঢাকার কেরানীগঞ্জে।

গত বছর আম্পান নামের মহাঝড়ের তাণ্ডব আমরা দেখেছিলাম। ঝড়ের পর হঠাৎ করেই পাঁচটি নতুন পাখি দেখা গিয়েছিল। সবই ছিল গভীর সাগরের পাখি। এর আগে কখনো নদীতে দেখা যায়নি। চারটি পাখি দেখা গিয়েছিল রাজশাহী শহরের খুব কাছাকাছি পদ্মা নদীতে, গত বছরের ২১ ও ২২ মে। আরেকটি পাখি দেখা গিয়েছিল ঢাকায়।

পাঁচটি পাখির প্রথমটি ছিল স্যুটি পানচিল, যা সব পানচিল থেকে আলাদা এক স্বভাবের। পাখিটির প্রথম আবাসস্থল থেকে বের হওয়ার পর চার–পাঁচ বছর ডাঙায় অবতরণ করে না। তাদের শরীরে জল নিরোধক পালক না থাকায় প্রজাতিটি সাঁতারও কাটতে পারে না। ১৭৫ গ্রাম ওজনের এই ছোট্ট পানচিল একসঙ্গে দল বেঁধে বাসা বানায়। এ রকম একটি পাখি পদ্মা নদীতে দেখা সত্যিই অসাধারণ।

দ্বিতীয় পাখিটির নাম ইউলস স্ট্রোম পেট্রোল। এর নামকরণ হয়েছে এক স্কটিশ–আমেরিকান ভদ্রলোক ইউলসের নামে। এটি গোটা দুনিয়ার সবচেয়ে ছোট্ট সামুদ্রিক পাখির অন্যতম। দেখা যায়, মূলত অ্যান্টার্কটিকার উপকূলীয় অঞ্চল, উত্তর আটলান্টিক, ভারত মহাসাগর এবং কোনো কোনো সময় প্রশান্ত মহাসাগর। পাখিটি পাথুরে সাগরের দ্বীপগুলোতে দল বেঁধে প্রজননকাল কাটায়, যার দেখা মিলল পদ্মায়।

ব্রিডলেড টার্ন বা পানচিল নামের পাখিটি প্রজনন মৌসুম কাটায় আটলান্টিক ও প্যাসিফিক সাগরের বুকে। স্যুটি টার্নের সঙ্গে এরাও দল বেঁধে বাসা বানায়। আর লম্বা লেজ জিগার প্রজাতিটি হলো উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের পাখি। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বিভিন্ন দ্বীপে এরা প্রজনন মৌসুম কাটায়। প্রজনন মৌসুম ছাড়া এরা সাধারণত স্থলভাগে খুবই কম আসে। তাই রাজশাহী অঞ্চলে এই পাখিগুলো দেখা আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার।

সবশেষ পাখিটির নাম ওয়েডজ-টেইলড সেয়ার ওয়াটার। আমাদের এক পাখিপ্রেমী বন্ধু সেথ মিলার করোনাকালে তাঁর লালমাটিয়ার বাসার ছাদ থেকে আম্পানের ঝড়ের পরের দিন এই পাখির ছবি তোলেন। এটিও গভীর সাগরের পাখি।

গভীর সাগর ও সৈকতের এসব পাখি এ দেশের নদীতে দেখার ঘটনা খুবই বিরল। হয়তো ঝড়ের পর পাখিরা দিশেহারা হয়ে ওপরের দিকে উঠে এসেছে। আর কোনো কারণ আমাদের জানা নেই। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পরও সাগরের পাখিদের দেখা মিলতে পারে। তবে নদীতে দেখা পাখিগুলো দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি আর খাবারের পরে অস্বাভাবিক আচরণ করে। পাখিগুলো দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো। গভীর সাগরের এসব পাখি আবার নিজ এলাকায় ফিরে যাবে, এই আশা করি।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন