default-image

দেশে এখন আর শৈত্যপ্রবাহ নেই। তবে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে উত্তরাঞ্চলীয় বিভিন্ন এলাকায়। আকাশ ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। সূর্যের দেখা নেই। ভরদুপুরেও মনে হচ্ছে সবে সকাল শুরু। ঘড়ির দিকে না তাকালে বেলা ঠাহর করাই মুশকিল। তার ওপরে আবার মেঘ জমছে আকাশে। সম্ভাবনা রয়েছে হালকা বৃষ্টির। তাতে শীত খানিকটা বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে, ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড কক্সবাজারে, ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৫ ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে উপমহাদেশীয় উচ্চচাপের বর্ধিত অংশের কারণে আমাদের দেশে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিয়েছিল, তা সরে গেছে। তবে শীত অনুভূত হচ্ছে মেঘলা আকাশ ও ঘন কুয়াশায় সূর্য আড়ালে থাকার কারণে। রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সূর্য ঢাকা পড়ে আছে। এর পাশাপাশি দুদিন ধরে দক্ষিণা বাতাস প্রবেশ করেছে। মৃদু হাওয়া বইছে। এসব কারণেই শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও বেশ শীত লাগছে।

এদিকে আবার মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাব পড়েছে আবহাওয়ায়। এই লঘুচাপের বর্ধিত অংশ এখন বিহার ও এর সংলগ্ন এলাকায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সারা দেশের আকাশ মেঘলা থাকবে আরও দু–তিন দিন। বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের কোথাও কোথাও হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, শীতকালে এ ধরনের হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অস্বাভাবিক নয়। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলে শীতের প্রভাব কিছুটা তীব্র হতে পারে।

শ্রীমঙ্গলে কনকনে শীত

আমাদের প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আজ তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি বাড়লেও তা দেশের সর্বনিম্ন। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে চায়ের রাজধানী–খ্যাত শ্রীমঙ্গলে নিম্ন আয়ের ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সূর্য ভালো করে দেখা যায় না, আলোর আভা থাকলেও রোদের উত্তাপ নেই। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে তীব্র শীতের কারণে চা–বাগান অধ্যুষিত এলাকায় বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চা–বাগানের নিম্ন আয়ের শ্রমিকেরা শীতের গরম কাপড়ের অভাবে বেশ কষ্ট পাচ্ছেন। সকাল ও সন্ধ্যাবেলা অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন