বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মায়াময় হাসি উপহার দেওয়া এই ভদ্রলোক আর কেউ নয়, এ দেশের মহাবিপন্ন বন্য প্রাণী, চশমা পরা হনুমান। কালো হনুমান বা কালা বান্দর নামেও পরিচিত। কালো মুখমণ্ডলে শুধু চোখের চারদিকে সাদা, দেখলে মনে হয় যেন চশমা পরে আছে। তাই এ রকম নাম। ইংরেজি নাম ফাইয়ারস ল্যাংগুর, স্পেকল্ড ল্যাংগুর বা ফাইয়ারস লিফ মাঙ্কি। সারকোপিথেসিডি গোত্রভুক্ত প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম Trachypithecus phayrei। বাংলাদেশের তিন প্রজাতির হনুমানের মধ্যে আকারে এরাই ছোট। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, মিয়ানমার, লাওস, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে বাস করে।

স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে চশম পরা হনুমান লম্বায় ৫৫-৬৫ সেন্টিমিটার; আর এর লেজ ৬৫-৮০ সেন্টিমিটার। ওজনে পুরুষ ৭-৯ কেজি ও স্ত্রী ৫-৭.৫ কেজি। চোখের চশমা ছাড়া দেহের বাকি অংশের চামড়া কালো। ঠোঁটের চামড়ার ওপরও সাদার ছোপ রয়েছে। লোমবিহীন মুখমণ্ডল, কান, হাত ও পায়ের পাতা কুচকুচে কালো। পিঠ, দেহের পাশ ও লেজ কালচে ধূসর। বুক, পেট ও দেহের নিচটা সাদাটে ধূসর। নবজাতকের পুরো দেহের লোম কমলা, যা মাসখানেক পর থেকেই ধূসর হতে থাকে।

চশম পরা হনুমান সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। বৃক্ষবাসী প্রাণীগুলো তেমন একটা মাটিতে নামে না। ঘুম, চলাফেরা, খাবার সংগ্রহ, খেলাধুলা, গা চুলকানো, বিশ্রাম—সবকিছু গাছেই সম্পন্ন করে। সচরাচর একটি শক্তিশালী পুরুষের নেতৃত্বে ১০-১৫টি হনুমান একটি দলে বিচরণ করে। তবে কোনো কোনো বড় দলে ২-৩টি শক্তপোক্ত পুরুষও থাকতে পারে। প্রতিটি দলের নির্দিষ্ট বিচরণ এলাকা রয়েছে, যেখানে অন্যরা প্রবেশ করে না। একই এলাকায় মুখপোড়া হনুমান ও অন্যান্য বানর প্রজাতির সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ ছাড়াই খাবারদাবার খেয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে।

এরা গাছের ডালে ডালে ঘুরে পাতা, পাতার বোঁটা, ফুল, ফল ও কুঁড়ি খায়। উদ্ভিদের পরাগায়ন ও বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বাচ্চারা দীর্ঘ সময় ধরে খেলাধুলা করে। মা বাচ্চাকে বুকে নিয়ে এক গাছ থেকে অন্য গাছে যখন লাফিয়ে পড়ে, দেখতে বেশ লাগে। পাতা ও গাছে জমে থাকা পানি ও শিশির পান করে তৃষ্ণা মেটায়। ‘চেং কং’ শব্দে ডাকে। অন্যকে ভয় দেখাতে মুখে ভেংচি কাটে।

জানুয়ারি থেকে এপ্রিল প্রজননকাল। পুরুষ ৫-৬ বছর ও স্ত্রী ৩-৪ বছর বয়সে প্রজননক্ষম হয়। আয়ুষ্কাল প্রায় ২০ বছর।

আ ন ম আমিনুর রহমান, অধ্যাপক, বশেমুরকৃবি, গাজীপুর

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন