জামালপুরে পৌরসভার বর্জ্য যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদে

বিজ্ঞাপন
default-image

জামালপুর পৌর শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদটি শুকিয়ে যাওয়ায় জেগে ওঠা চর এখন শহরবাসীর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। তবে সেই বিনোদনে কিছুটা হলেও ভাটা পড়েছে পরিবেশদূষণে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরের ময়লা-আবর্জনা ট্রাকে করে নিয়ে নদে ফেলছেন। সেই আবর্জনার দুর্গন্ধে নদের পাড়ে দাঁড়ানো যায় না। দুর্গন্ধের কারণে লোকজন নদের তীরে বেড়াতে যেতে পারছেন না। পরিবেশদূষণের পাশাপাশি আবর্জনায় ভরাট হচ্ছে নদ।

গত শুক্রবার শহরের পুরোনো ফেরিঘাটের ব্রহ্মপুত্র সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এলাকায় ভাঙনরোধে একটি শহর রক্ষা বাঁধ করা হয়েছে। বাঁধের দক্ষিণ পাশ দিয়ে নদে নামার একটি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। রাস্তা ধরে নদের তীরে নামলেই চোখে পড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বর্জ্যগুলো জেগে ওঠা জমিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। নদের একদম তীরের বর্জ্য ফেলা হয়েছে। বর্জ্য দেখেই বোঝা যায়, এগুলো শহরের বিভিন্ন আস্তাকুঁড় থেকে এনে ফেলা হয়েছে। সেই বর্জ্যের পাশে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের বিছানার চাঁদর ও কাপড় শুকাতে দেওয়া হয়েছে। নদের তীরে কিছু লোক বসে আড্ডা দিচ্ছেন।

এ প্রতিবেদককে বর্জ্যের ছবি তুলতে দেখে জামালপুর পৌর শহরের বশাকপাড়া এলাকার বাসিন্দা রতন কুমার দাস এগিয়ে আসেন। তিনি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিছানার চাদর পরিষ্কার করেন। ব্রহ্মপুত্র নদের জেগে ওঠা সবুজ মাঠে এসব চাদর শুকাতে দেন। দীর্ঘদিন ধরে এ কাজটি করে আসছেন। তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ট্রাকে করে প্রায়ই শহরের বর্জ্য এখানে ফেলে যাচ্ছেন। খুব ভোরে ফেলে যান। তাঁরাও কাপড় শুকাতে ভোরেই আসেন। যখন এসব বর্জ্য ফেলা হয়, পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামালপুর পৌর শহরটি একদম ছোট। এখানে ছেলেমেয়ে ও পরিবার নিয়ে একটু ঘুরে বেড়ানোর কোনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে শহর রক্ষা বাঁধ ও ব্রহ্মপুত্র নদের জেগে ওঠা সবুজ মাঠ এখন শহরবাসীকে বিনোদনের স্থান করে দিয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরবাসী এখানে ঘুরতে আসে এবং অনেকে বসে আড্ডা দেয়। কিন্তু খোদ পৌরসভা এত সুন্দর একটি জায়গা বর্জ্য ফেলে নষ্ট করে দিয়েছে। সব সময় বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পরিবেশটা নষ্ট করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবুজ মাঠে দাঁড়িয়ে একটি ছবি তুলবেন। ছবিতে আপনার সঙ্গে বর্জ্যও উঠে যাবে।’

জামালপুরের পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের পরিবেশ ও নদটি দখলমুক্ত করতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। এত কিছুর পরও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেন ঘুমিয়ে রয়েছে। শহরের পলাশগড় এলাকায় প্রায় আড়াই একর জমির মধ্যে বর্জ্য ফেলার নির্ধারিত স্থান রয়েছে। কিন্তু পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ফৌজদারি ও পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় নদে বর্জ্য ফেলছেন।

পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম বলেন, নদে বর্জ্য ফেলার কোনো সুযোগ নেই। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় কয়েক দিন তাঁর অজান্তে বর্জ্য ফেলেছিলেন। তিনি শোনার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বর্জ্য ফেলতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু এখনো বর্জ্য ফেলা হয় জানালে মেয়র বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে সেখানে বর্জ্য না ফেলে, তার কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নিষেধ করার পরও যাঁরা ফেলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন