বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুকুরের পূর্ব পাড়ের ঘাট থেকে একটু দূরে ছিল এক সারি খেজুরগাছ। খেজুরগাছের অসংখ্য বাইল নুয়ে পড়েছিল পানির কাছাকাছি। কোনোটির আগা ডুবে গেছে। পুকুরের বড়, ছোট ও মাঝারি শোল মাছ ভেসে উঠত ওই খেজুরের বাইলের নিচে। কাছিমের মতো কিছুক্ষণ পরপর ওরা ওপরে এসে শ্বাস নিত। কোনো এক দুপুর বেলায় সেখানে দেখা হয় ডাহুকী ও তার বাসার সঙ্গে। খেজুরগাছের নুয়ে পড়া বাইলের (কয়েকটি বাইলের সংযোগস্থলে) ওপর লতাপাতায় মোড়ানো গোলাকার একটি বাসা। পুকুরের পানির সামান্য ওপরে বাসাটি। খুব সুন্দর গোলাকার বাসা। বাসায় সাতটি ডিম। ডিমের রং সাদা, তাতে লালচে ছিট। ডাহুকী ডিমে তা দিচ্ছে। তার কালো ও সাদা বর্ণের পালক। সবুজ ঠোঁট, ওপরের ঠোঁটের গোড়ার অংশ গাঢ় লাল। ভারি সুন্দর চোখ। ডাহুক পাখির কথা মনে পড়লে সেই রং মনে পড়ে, ডাহুক দেখলে তার ঠোঁটের দিকে প্রথমে তাকাই। পরিণত বয়সে বা প্রজনন মৌসুমে ডাহুকীর ঠোঁটের রং এমন হয়।

এরপর কয়েক দিন ধরে লুকিয়ে ডাহুকের বাসা দেখতাম। একদিন দুপুরে গিয়ে দেখলাম বাসায় কুচকুচে কালো কালো ছানা, একদম মুরগির ছানার মতো দেখতে! কিছুক্ষণ পর ছানাগুলো একে একে বাসা থেকে টুপ করে লাফ দিয়ে পানিতে নামছে। ছয়টি ছানাই নামল, একটি ডিম শুধু ফোটেনি। তারপর ছানাগুলোকে নিয়ে ডাহুকী পুকুরে পশ্চিম দিকে চলে গেল। এরপর প্রায়ই পুকুরে ছানাগুলোর সঙ্গে দেখা হতো। তবে মানুষের উপস্থিতি টের পেলে ছানাগুলো ডুব দিয়ে অন্য জায়গায় চলে যেত। ছানাগুলো খুবই চঞ্চল ও দৌড়াতে পটু। যে কারণে গ্রামের দুষ্ট ছেলেরাও ছানাগুলোকে ধরতে পারত না। প্রতিবছর কয়েক জোড়া ডাহুক বাড়ির আশপাশে ঝোপে বাসা করত। বেশি বাসা বানাত আসমা লতার ঝোপে ও হিজলগাছে। তবে সুপারিগাছের মাথায়ও বাসা বানাত। ডাহুক সব সময় ডাকত না। সন্ধ্যায় কয়েক জোড়া ডাহুক কো... কো... কোড়রাও কোড়াও সুরে কয়েকবার ডাকত। ডাহুকের সেই সন্ধ্যার ডাক এবং সবুজ ঠোঁটের সৌন্দর্য কোনো দিন ভোলার নয়।

শহরে ডাহুক বিরল। ঢাকা শহরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের হ্রদ ও ডোবায় কেবল ডাহুক দেখা যায়। সম্প্রতি ঢাকা শহরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি পুকুরে ডাহুক বাসা বেঁধে ছানা তুলেছে। পুকুরটিতে জলজ উদ্ভিদ থাকায় ছানাগুলো পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে। ঢাকা শহরের রমনা, ধানমন্ডি, উত্তরার লেকগুলোতে উপযোগী পরিবেশ পেলে ডাহুকসহ অন্যান্য জলজ পাখি আবাস গড়ে তুলবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরে আসবে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন