বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ প্রথম আলোর সঙ্গে এই ডলফিন নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ। তিনি জানালেন, পরপর দুই দিন ডলফিন পাওয়ার খবর আমাদের আশা জাগায়। যে প্রাণীটি পাওয়া গেছে, তা কর্ডাটা পর্বের স্তন্যপায়ী শ্রেণির প্ল্যাটিনেস্টিডে (Platanistidae) পরিবারভুক্ত। এটি প্ল্যাটেনিসটা গ্যাঞ্জেটিকা বা প্রচলিত বাংলায় গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক নামে পরিচিত। লাজুক স্বভাবের প্রাণীটি সাধারণত লোকালয় থেকে দূরে, নদী যেখানে বাঁক খেয়ে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়, তেমনই বেশি স্রোতশীল জায়গায় থাকতে ভালোবাসে। এটি কিছু সময় পরপর অক্সিজেনের প্রয়োজনে, বিশেষ করে শেষ বিকেলে ঘন ঘন পানির ওপরে লাফ দেয় বা ভেসে ওঠে।
স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, গতকাল আশুলিয়া ঘাটে যখন জেলেরা ডলফিনটিকে তীরে টেনে তোলেন, তখন এটির মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।

নদের পানির অতিদূষণের কারণে অক্সিজেনের স্বল্পতা বা খাদ্যাভাবে এমনটি ঘটতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই ঘাটের পানি পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। তুরাগপারের স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, ১৫-২০ বছর আগেও বুড়িগঙ্গা বা তুরাগে মাঝেমধ্যে ডলফিন দেখা যেত। ডলফিন বর্তমানে ভারতের ‘জাতীয় জলচর’ প্রাণী হিসেবে ঘোষিত।

দূষণে বিপর্যস্ত তুরাগে ডলফিন পাওয়ার খবর কিছুটা আশাজাগানিয়া, এমনটাই মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নিয়ামুল নাসেরের। এই প্রাণিবিজ্ঞানী বলেন, ‘দুটি ডলফিনই পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায়; অর্থাৎ তারা এ পথে এসেছিল ভালো পানির সন্ধানে, কিন্তু এসে সেই দূষণের মধ্যেই পড়ল। যেটা তারা সহ্য করতে পারেনি।’

নদ-নদীর পানিদূষণ পরিমাপে অন্যতম এক মাপকাঠি হলো, পানির দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) মান নিরূপণ। প্রতি লিটার পানিতে ন্যূনতম ৫ মিলিগ্রাম ডিও থাকলে ওই পানি মানসম্পন্ন বলে বিবেচনা করা হয়। তবে তুরাগসহ ঢাকার আশপাশের নদ-নদীর ডিওর মান শুকনা মৌসুমসহ বছরের বেশির ভাগ সময় ৫ মিলিগ্রামের নিচেই থাকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক হিসাবে দেখা যায়, গাবতলী সেতুর কাছে তুরাগ নদে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ডিও ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। আশুলিয়ায় তুরাগের ডিও ছিল ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

default-image

তুরাগের দূষণের পাশাপাশি এখানে নৌযানের আধিক্য ডলফিনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে মনে করেন অধ্যাপক নাসের।

প্রাণিবিজ্ঞানীরা বলছেন, একসময় যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বা তার গভীর শাখা নদ-নদীগুলো, যেমন মহানন্দা, বড়াল, ইছামতীতে একসময় প্রচুর দেখা যেত। কিন্তু পরিবেশ-প্রতিবেশের বিরূপতার শিকার হয়ে এখন প্রায়ই হারিয়ে যেতে বসেছে।
প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর জোট আইইউসিএনের বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় এদের ঠাঁই হয়েছে।

মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, গত দুই বছর দীর্ঘমেয়াদি বন্যা হয়েছে। এতে জলজ পরিবেশের কিছু দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তাই রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী নদী ও খালগুলো প্লাবিত হওয়ায় সংকীর্ণ খাল বা ডোবা–নালায় যেমন বেশ কিছু দেশীয় প্রজাতির মাছের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, তেমনিভাবে এই ডলফিনও তুরাগ নদে এসে থাকতে পারে।

মামুনুর রশীদ জানান, যেহেতু দুটি ডলফিন এ অবস্থায় পাওয়া গেছে, এ রকম আরও ডলফিন আশপাশে পাওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে পানির দূষণ নিয়ন্ত্রণ বা জলজ পরিবেশের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সংবিধানেও পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও উন্নয়নের বিষয়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন