default-image

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আজ শনিবার সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও সকাল সকাল ঝলমলে রোদ দেখা যাওয়ায় দিনেরবেলা শীত অনুভূত কম হচ্ছে। এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এর আগে টানা তিন দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এক মাস ধরে দেশের এই উত্তর জনপদে দিনেরবেলা রোদের তীব্রতা থাকলেও রাতে শীত অনুভূত হচ্ছিল। তবে গতকল শুক্রবার তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও দিনভর দেখা মেলেনি সূর্যের। এতে সারা দিনই শীত অনুভূত হয়ে মানুষ প্রায় কাবু হয়ে পড়েছিল। এ ছাড়া রাতে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

বিজ্ঞাপন

হিমালয়ের খুব কাছাকাছি জেলা হওয়ায় পঞ্চগড়ে সহজেই উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে হিমালয়ের হিম বায়ু প্রবেশ করে। ফলে হেমন্তেই এমন শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। সেই সঙ্গে গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারদিক।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে আরও জানা যায়, দেশে ২ ডিগ্রি থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। ৪ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। ৬ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় এবং ৮ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা বিরাজ করলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক কাজী মতিউর রহমান বলেন, গতকাল সারা দিন সূর্যের আলো দেখা না যাওয়ায় প্রচণ্ড শীত অনুভূত হয়েছিল। এ ছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে প্রায় প্রতি রাতেই উত্তরের হিমেল বাতাসে তেঁতুলিয়ার মানুষ কাবু হয়ে পড়ছে। রাতভর বৃষ্টির মতো টিপ টিপ করে কুয়াশা ঝরছে। আজকে সকাল সকাল রোদ ওঠায় দিনেরবেলা শীত কিছুটা কম মনে হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ প্রথম আলোকে বলেন, ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নেমে গেলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। শুক্রবার আকাশে মেঘ ও ঘন কুয়াশা থাকায় সারা দিন সূর্যের আলো ভূপৃষ্টে আসতে পারেনি। এ জন্য দিনভর শীত বেশি অনুভূত হয়েছে এবং রাতে তাপমাত্রা কমে গিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় আজ সকাল থেকেই ঝলমলে রোদের দেখা মিলেছে। আগামী কয়েক দিন তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন