default-image

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা চার দিন ধরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর আগে গতকাল সোমবার সকাল নয়টায় তেঁতুলিয়ায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টায় তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া গত রোববার সকাল নয়টায় তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টায় তেঁতুলিয়া দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত শনিবার সকালে তেঁতুলিয়ায় সারা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৩ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে সন্ধ্যা ছয়টায় তেঁতুলিয়া দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

১০ দিন ধরে পঞ্চগড়ে দিনের বেলা রোদের তীব্রতা থাকলেও রাতে শীত অনুভূত হচ্ছে। হিমালয়ের খুব কাছাকাছি জেলা হওয়ায় পঞ্চগড়ে সহজেই উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে হিমালয়ের হিম বায়ু প্রবেশ করায় হেমন্তেই এমন শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হয়ে কুয়াশার পরিমাণ কমেছে দেশের সর্ব উত্তরের এই জনপদে।

বিজ্ঞাপন

হেমন্তের মাঝামাঝি সময়ে সন্ধ্যা নামলেই জেলার মানুষকে ঠান্ডায় কাবু করছে উত্তরের হিমেল বাতাস। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত হালকা কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারদিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের দেখা মিললেও রাতে গায়ে জড়াতে হচ্ছে গরম কাপড়।

জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা শহরের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে উত্তর দিকে থেকে যে হিমেল বাতাস আসে, তাতেই সন্ধ্যার পর খুব বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়। বাতাসের পরিমাণ যখন বেশি থাকে, তখন আকাশ পরিষ্কার হয় এবং কুয়াশা কম দেখা যায়। এতে সারা দিন রোদ-গরম থাকলেও সন্ধ্যা হতে না হতেই শীতে প্রকোপ বাড়ে। সন্ধ্যা হলেই গরম কাপড় ছাড়া বেরই হওয়া যাচ্ছে না।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ প্রথম আলোকে বলেন, চার দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তেঁতুলিয়া হিমালয়ের খুব কাছাকাছি হওয়ায় উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে হিমেল বাতাস সরাসরি এখানে আসছে। সাইপ্রাস থেকে আসা ঠান্ডা বাতাস হিমালয়ে ধাক্কা খেয়ে সরাসরি এই এলাকায় আসায় এখানে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে এবং শীত অনুভূত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য পড়ুন 0