বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ধলাগলা মানিকজোড়কে একসময় ইতস্তত ভ্রমণকারী পাখি ভাবা হলেও এখন প্রজাতিটি নিয়মিত শীতের পরিযায়ী। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দায় শীতে ৩০-৪০টি পাখির দেখা মেলে। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ২০১৭ সালে এই পাখির একটি বাসার দেখা মেলে রাজশাহীর রাজাবাড়ী এলাকায়। বাসাটি ছিল একটি মুঠোফোনের টাওয়ারে। সে বছর ওই বাসা থেকে দুটি বাচ্চা পাওয়া যায়। এর পরের দুই বছরও বাসাটিতে নিয়মিত বাচ্চা ফুটিয়েছে পাখিযুগল। তিন বছরে মোট সাতটি বাচ্চা পাওয়া যায়। পাখিদেখিয়ে মুহাম্মদ তারিক হাসান ও প্রাসাদ ঘিমিরে এই পাখির প্রজনন নিয়ে একটি নোট প্রকাশ করেন। তাঁরা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় পাখির বাসার সন্ধান পান। এ বাসাও ছিল একটি মুঠোফোন টাওয়ারে। জায়গাটি ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের জয়দেবপুরের কাছাকাছি। বাসাটিতে পাখি ডিম পাড়লেও কোনো বাচ্চা পাওয়া যায়নি। ২০১৯ সালে পাখিরা বাসাটি ছেড়ে যায়।

ধলাগলা মানিকজোড় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে বেশ ভালো সংখ্যায় টিকে আছে। ভারতে এদের সংখ্যা এখন বেশ ভালো। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও মালদহ জেলায় পাখিটির প্রজনন অঞ্চল থাকায় আমাদের দেশের পদ্মায় পাখিটি নিয়মিত দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ছয় জাতের মানিকজোড় দেখা যায়। অন্য মানিকজোড়গুলোর মধ্যে এশীয় শামুকখোলের সংখ্যাও বাংলাদেশে বেড়েছে বেশ। কালা মানিকজোড় ও কালাগলা মানিকজোড় অত্যন্ত বিরল পাখি হলেও এখন পদ্মা-যমুনায় প্রতি শীতে দেখা যাচ্ছে। আরেকটি প্রজাতি রাঙা মানিকজোড়। এ দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই শীতে এর দেখা মেলে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন