বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গুইসাপের ছানা তিনটি নির্বিকার। ওগুলোর মূল খাবার মাছ-কাঁকড়া। তবে জন্মের পর সপ্তাহখানেক ওগুলো শুধু পোকামাকড়ই খাবে। গুইসাপের টকটকে হলুদরঙা বাচ্চা তিনটি পুঁচকেদের ভয়েই ডুব দিল। পাখি ছয়টি শান্ত হলো এবং যার যার বাসার পাশে বসল। প্রথম পাখিটি এবার নিজের বাসার ওপরে বসে আবারও শুরু করল প্রাণখোলা মিষ্টি গান। কান খুলে আর চোখ বুজে তখন শুনছি আমি পাখিটার গান। ধানটুনির গান, শুনতে হবে খোলা রেখে দুই কান। চোখ বন্ধ করলে আরও ভালো হয়।

ঘটনাটি গত ২১ সেপ্টেম্বরের। গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। শৈশব-কৈশোরের একটি মাঠে গিয়ে বসে ছিলাম চুপচাপ। পাশাপাশি তিনটি বাসা। গোলাকার বাসাগুলোর প্রবেশপথটি ছোট। শুধু ধানখেতে নয়,Ñশক্ত ডাঁটির ঘাসবনেও বাসা করে। উপকরণ মুখে এগুলোও মুনিয়াদের মতো দুলতে দুলতে উড়ে আসে। মনে হতে পারে উড়ন্ত সাপ। হলুদ গুইসাপের বাচ্চাদের দেখে ভয় পেয়েছিল পাখিগুলো। হলুদ গুই নয়, এদের কাছে আতঙ্কের নাম হলো সাধারণ গুইসাপ ও দাঁড়াশ সাপ। এগুলো এসে লন্ডভন্ড করে দেয় বাসা-ডিম ও ছানা। আরেকটি মহা অদৃশ্য-অভাবিত আতঙ্কের নাম হলো সোনাব্যাঙ। চুপি চুপি এসে টার্গেট করে ও লম্ফ দিয়ে পাখি, বিশেষ করে সদ্য বাসা থেকে বেরোনো ছানাদের মুখে পুরে বিপরীত দিকের জলে লাফিয়ে নামে। সে এক ভয়ংকর আশ্চর্য সুন্দর দৃশ্য। আকাশশত্রু তুখোড় শিকারি পাখি বাজ তুরমতিও ক্বচিৎ শিকার করে এগুলোকে। বেজি-বনবিড়াল ও ভোঁদড়দের কর্মকাণ্ড আমি দেখেছি এদের বাসা-ডিম ও ছানাদের ঘিরে। মুনিয়া পাখিদের সঙ্গে এদের বন্ধুত্ব ও মিলমিশ দেখার মতো বিষয়।

সারা দেশে দেখতে পাওয়া ও আমার বহুকালের পরিচিত পাখিটার নাম ধানটুনি। ইংরেজি নাম জিটিং কিস্টিকোলা। বৈজ্ঞানিক নাম Cisticola juncidis। দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার। ওজন ০৭ গ্রাম। মূল খাদ্য ধানখেত-ঘাসবন-কাশবনসহ জলজ গাছগাছড়ার পোকামাকড়-শুঁয়োপোকা-লার্ভা ও নানান রকম শস্যবীজ। ‘দুধধান’, অর্থাৎ ধানের ভেতরে যখন সাদা-ঘন তরল জমে, সেই তরল পান করে সুখে। বাসার ছানাদেরও পান করায়। ধানটুনিদের আছে ‘ডিম ফুটে ছানা’ হওয়ার ‘আনন্দ-সংগীত’,Ñআছে ছানাদের খাবার খাওয়ানোর গানও। নির্জন মাঠে বসে সেই সুমধুর গান শুনলে সবারই ভালো লাগার কথা।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন