বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে একদল পাখিপ্রেমীর হাওরে হেঁটে চলা শুরু হয়, এক বিলের পাখি গুনে আরেক বিলে। তীব্র শীতে ঘাসের গায়ে জমা শিশিরে সিক্ত হয়ে পথ চলা বড়ই রোমাঞ্চকর ও স্বপ্নময়। হাওরের কোনো কোনো বিলে যখন অনেক জলচর পাখি দেখা যেত, তখন আমাদের পথ হাঁটার কষ্ট নিমেষে মুছে যেত। রংবেরঙের কত জলচর পাখি দূরদেশ থেকে এসে বাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে। বিলগুলোয় জলচর পাখির মধ্যে উল্লেখযোগ হলো ল্যাঞ্জা হাঁস, পাতি সরালি, তিলি হাঁস, ফুলুরি হাঁস, সিঁথি হাঁস, গিরিয়া হাঁস, টিকি হাঁস, কয়েক প্রজাতির ভূতি হাঁস, পানকৌড়ি, ডুবুরি, বড় বগা, শামুকভাঙা, কালেম ইত্যাদি। কালেভদ্রে দু–একটি সুদর্শন বুনো রাজহাঁস দেখা যায়।

একবার একটি বিলে নানা প্রজাতির বুনো হাঁসের মধ্যে প্রথম দেখা হয়েছিল শুধু একটি রাজহাঁসের সঙ্গে। বিশাল বিলের মাঝখানে থাকায় বাইনোকুলার দিয়েই হাঁসটি পর্যবেক্ষণ করে বোঝা গেল এটি ধূসর রাজহাঁস বা মেটে রাজহাঁস (Anser anser)। অনেক দূরে থাকায় ভালো ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি জামার্নির ড্রেসডেন শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এলবে নদীতে এক বিকেলে দেখা হয় চারটি ধূসর রাজহাঁসের সঙ্গে। এলবে ইউরোপের অন্যতম প্রধান নদী। হাঁস চারটি নদীর কিনারে জলজ ঘাস খাচ্ছিল। এত কাছ থেকে বুনো রাজহাঁস দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই রোমাঞ্চকর। রাতের আঁধারে দেখলাম, হাঁসগুলো এক জায়গায় জড়ো হয়ে ভেসে থাকে। বাংলাদেশে সম্প্রতি রাজশাহী বিভাগের কিছু জলাশয়ে ধূসর রাজহাঁস দেখা গেছে।

ধূসর রাজহাঁস বাংলাদেশে বিরল প্রজাতির পরিযায়ী পাখি। দেশের কেবল হাওর, প্রান্তিক এলাকার বড় বিল ও নদীতে শীতের সময় অনিয়মিতভাবে এই হাঁস আসে। তা ছাড়া ভারত, পুরো ইউরোপ, আফ্রিকার কিছু দেশ, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এ হাঁসের দেখা মেলে। বিগত কয়েক দশকে ধূসর রাজহাঁসের সংখ্যা বেশ সন্তোষজনক হারে বেড়েছে। নরওয়েতে গত ২০ বছরে এর সংখ্যা ৩ থেকে ৫ গুণ বেড়ে গেছে। যে কারণে এ প্রজাতিটিকে বিশ্বে ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ প্রজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার গৃহপালিত রাজহাঁসের পূর্বপুরুষ ধূসর রাজহাঁস।

ধূসর রাজহাঁস নদী, হ্রদ, নিচু জলাবদ্ধ জমি, কৃষিজমি, আদ্র৴ তৃণভূমি ও সমুদ্র উপকূলে বিচরণ করে। এরা ছোট, মাঝারি ও বড় ঝাঁকে চলে। খাবারের তালিকায় রয়েছে ঘাস, জলজ আগাছা, শামুক, গুগলি ও ফসলের কচি ডগা। সাধারণত জলাশয়ে ঠোঁট ডুবিয়ে এরা খাবার খোঁজে। দিনের বেলায় চরে, তবে পূর্ণিমার রাতে সক্রিয় হতে পারে। এপ্রিল মাসে ধূসর রাজহাঁস এশিয়া ও সাইবেরিয়ার নল বন ও ঘাসের ঝোপে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ২৭-২৮ দিনে ডিম ফুটে ছানা হয়। ছানাগুলো মা পাখির সঙ্গে জলে ও স্থলে চরে বেড়ায় এবং পরিযায়নের সময়ও মা পাখিকে অনুসরণ করে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন