গত মার্চে এই পাঁচ জেলায় থাকা অবৈধ ইটভাটার সব ধরনের স্থাপনাসহ নির্মাণসামগ্রী কোনো ধরনের দেরি ছাড়াই ধ্বংস করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ বিষয়টি ওঠে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী আমাতুল করীম শুনানিতে ছিলেন।

পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে একপর্যায়ে আদালত অবৈধ ইটভাটার তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দেন। পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, পাঁচ জেলায় অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা ৩১৮।

আদালত অবৈধ ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এরপর চার জেলার জেলা প্রশাসক প্রতিবেদন দিয়ে জানান, ১১৪টি ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে। তবে একটি গণমাধ্যমে গত ১৯ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্ধের তালিকায় থাকা কিছু কিছু ইটভাটা এখনো চলছে।

এ অবস্থায় চার দফা নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। হাইকোর্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে ১৭ মে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটা বন্ধে নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু হয়নি। এই প্রতিবেদনে আদালত সন্তুষ্ট হতে পারেননি। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও কেন সম্পূর্ণ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি, সে বিষয়ে শুনতে হাইকোর্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে ১৭ মে আদালতে হাজির হতে বলেছেন।’

‘ঢাকার বাতাসে নতুন বিপদ’ শিরোনামে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম আলোয় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি যুক্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট করে। এর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকায় দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ও অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা নিয়ে এইচআরপিবি পক্ষে গত ৩০ জানুয়ারি সম্পূরক আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই পাঁচ জেলায় থাকা অবৈধ ইটভাটার তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দেন।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন