পটুয়াখালী জেলায় সামাজিক বনায়নের ৫ হাজার ৩৫৬টি গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চারটি কারণ দেখিয়ে বন বিভাগ এ গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নিয়েছে।
পরিবেশ আন্দোলন ‘বেলা’র বরিশাল অঞ্চলের সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোবাবিলায় উপকূলে বনায়ন রক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক গাছ কাটায় পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।
পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দশমিনা ও বাউফলে বাঁধ মেরামত করার চিঠি পাওয়া গেছে। একইভাবে সড়ক বিভাগও গত সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক প্রশস্ত করার জন্য চিঠি দেয়। সড়ক বিভাগ চিঠিতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গাছ সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় তা সরাতে নির্দেশ দেয়। এসব চিঠি পাওয়ার পর গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক বনায়নের গাছ হওয়ায় উপকারভোগীদের সঙ্গে চুক্তির সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। তাই গাছ কেটে তাঁদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।
পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, পটুয়াখালী সদর, দুমকি, বাউফল, দশমিনা, রাঙ্গাবালী—এই পাঁচ উপজেলায় সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের মোট ৫ হাজার ৩৫৬টি গাছ কাটার জন্য তালিকা করা হয়েছে। জেলার দুমকি-বাউফল সড়কের দুমকি উপজেলার পায়রা নদীর পূর্ব পাড় থেকে থানা সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের গাছ এ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে রাঙ্গাবালীর চর মোন্তাজ এলাকা, দশমিনা উপজেলার নয়টি এলাকা ও বাউফলের ডিগ্রি কলেজ থেকে গোসিংগা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশ থেকে গাছ কেটে ফেলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
গাছগুলো কাটার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি দরপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। কার্যাদেশ দিলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গাছ কাটা শুরু করবে।
বন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, গত বছরও (২০১৩-১৪ অর্থবছরে) বন বিভাগ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৫ হাজার ৬৭৭টি গাছ দরপত্রের মাধ্যমে কেটে ফেলে। তবে বন বিভাগের দাবি, গত বছর তারা ৪০ হাজার চারা লাগিয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান আ ক ম মস্তোফা জামান বলেন, রাস্তা প্রশস্ত করা ও বাঁধ মেরামতের জন্য এভাবে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলা ঠিক হবে না। এর ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে। তা ছাড়া এগুলো সামাজিক বনায়নের গাছ।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন