default-image

প্রকৃতিতে থাকা দেশি নানা জাতের পাখি, মাছ ও বন্য প্রাণী সুরক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় প্রায় ৮০ একর বনভূমিকে সম্প্রতি অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘কুহু’। উপজেলায় প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার স্থানীয় সাংসদ সিমিন হোসেন স্থানটি পরিদর্শন করে বৃক্ষরোপণ করেছেন। তাঁর উদ্যোগেই এই অভয়ারণ্য বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলার কড়িহাতা ইউনিয়নের পাকিয়াব গ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ সবুজ শালবনের এই অংশ নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ভরপুর। কিছুটা পাহাড়ি এলাকার মতো দেখতে ও বেশ কয়েকটি টিলাসমৃদ্ধ গ্রামের স্থানটি সবার কাছেই আকর্ষণীয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, নিভৃতপল্লির ওই বনে নানা জাতের দেশীয় পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারপাশ। বনজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি টিলা আছে। লতাপাতায় ঘেরা ঘন বনে প্রকৃতিতে সংকটাপন্ন বনরুই, গন্ধগোকুলসহ বিভিন্ন প্রাণীর দেখা মেলে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. ইসমত আরা বলেন, ওই বনভূমিতে দেশীয় পাখি যেন বিনা বাধায় বসবাস করতে পারে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হবে। তা ছাড়া বনের ভেতর পশুপাখির খাবার উপযোগী গাছপালা রোপণ করা হবে। বনের কয়েকটি স্থানে পুকুর খনন করে মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মাছ চাষ করা হবে। এ ছাড়া বনভূমির একটি অংশ পর্যটকদের ঘোরাফেরার উপযোগী করে তৈরি করা হবে। এসব কাজে বন বিভাগকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বন বিভাগের মাধ্যমে বনের বিভিন্ন অংশে গাছপালা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ওই গ্রামের বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভৌগোলিকভাবে পাহাড়ি এলাকার মতো দেখতে হওয়ায় এই স্থান নানা সময় প্রভাবশালীরা দখল করতে চেষ্টা চালিয়েছেন। সম্প্রতি সেখানে রিসোর্ট তৈরির জন্যও কিছু লোক চেষ্টা চালিয়েছিলেন। এভাবে বনটির অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গিয়েছিল। অভয়ারণ্য ঘোষণা করায় এখন বন বাঁচবে বলে আশা তাঁদের।

পাকিয়াব গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, বনের গাছ কেটে নেওয়ার জন্য মানুষ মুখিয়ে থাকে। এখন অন্তত গাছ কাটার দুঃসাহস দেখানো বন্ধ হবে। একই গ্রামের মো. মাসুদুল হক বলেন, বন উন্মুক্ত পড়ে থাকলে কিছু অসাধু মানুষ দখল করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। বিভিন্ন কলাকৌশলে দখল করে বনভূমি ধ্বংস করেন তাঁরা। এখন অভয়ারণ্য ঘোষণা করার ফলে দখলের চেষ্টা কেউ করতে পারবে না। তবে এ জন্য স্থানটি অভয়ারণ্য ঘোষণার পাশাপাশি বিশেষ নজরদারিরও প্রয়োজন আছে।

default-image

স্থানীয় সাংসদ সিমিন হোসেন বলেন, ‘মাটির যেমন গন্ধ আছে, তেমনি বিভিন্ন গাছেরও গন্ধ থাকে। আমরা গাছের কাছে গেলে এ গন্ধ পাব। তাই গাছ রক্ষা করতে হবে। প্রকৃতির যে প্রাকৃতিক গন্ধ, সেই গন্ধটা যেন মানুষ পায়, সেই ব্যবস্থা করছি আমরা। এসব বনের গজারিগাছে যখন ফুল হয়, তখন মনে হয় গাছগুলোয় মেঘ জমেছে। কী চমৎকার সে দৃশ্য! এই দৃশ্যগুলো অটুট রাখতে চাই। প্রকৃতি থাক প্রকৃতির কাছেই। মানুষ প্রকৃতির ওপর অবিচার না করুক, আমরা তা–ই চাই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন