বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ফলে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে জেলার ৩ উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ। 

বসতঘর বুকসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের কষ্ট বেড়েছে। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে, গুচ্ছগ্রামে, উঁচু জায়গায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বানভাসি মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছে। নেই শৌচাগারের সুবিধা। যমুনায় প্রবল স্রোতের সঙ্গে ভাঙছে চরের পর চর।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সারিয়াকান্দি উপজেলার মথুরাপাড়ায় যমুনা নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। বুধবার সকাল ৬টায় এখানে পানি প্রবাহিত হয়েছে ১৭ দশমিক ৮২ মিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ১১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় ১৭ দশমিক ৯৪ সেন্টিমিটার অর্থাৎ বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার পর্যন্ত বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার ৬২২। বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছে বর্তমানে ১ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন মানুষ। পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে কৃষকের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির পাট-ধান, বীজতলাসহ আবাদি ফসল।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলের মানুষ। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাসেল মিয়া বলেন, এখানকার ১৩টি ইউনিয়নের ১২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ২৫ হাজার ৭৫০ পরিবারের ১ লাখ ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। যমুনার দুর্গম ৮২টি চর যমুনার ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বানভাসি অনেক মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে, চরের শুকনো জায়গায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির পাট-ধান, বীজতলাসহ আবাদি ফসল।

অন্যদিকে, সোনাতলা উপজেলায় ৩ ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী রয়েছে ৪ হাজার ২৫০ পরিবার। দুর্গত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এ ছাড়া ধুনট উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মণ্ডল জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গতদের মাঝে এ পর্যন্ত ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৭ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন