default-image

চট্টগ্রামের এশিয়ান পেপার মিলের বিরুদ্ধে আবারও অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলে হালদা নদী দূষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে ওই কারখানা থেকে পাশের ছড়ায় তরল বর্জ্য ছাড়ার প্রমাণ পেয়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নন্দীরহাট এলাকায় অবস্থিত এশিয়ান পেপার মিলসের পাশে দিয়ে বয়ে গেছে মরা ছড়া খাল। তা আবার ডোম খাল, মাদারি খাল ও কাটাখালীর সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে মাদারি ও কাটাখালী খাল হালদা নদীতে গিয়ে মিশেছে। কারখানার বর্জ্য খালগুলোর মাধ্যমে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে গিয়ে পড়ে।

হালদা নদী দূষণের দায়ে গত ১০ জুন এশিয়ান পেপার মিলকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিল অধিদপ্তর।

গত শনিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন ও রোববার দুপুরে হালদা গবেষক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে ছড়ায় বর্জ্য ছাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর দাবি, সেখানে কোনো তরল পদার্থ ফেলা হয়নি।
হাটহাজারীর ইউএনও মো. রুহুল আমীন জানান, এশিয়ান পেপার মিল তরল বর্জ্য ছড়ায় ফেলেছে—এ রকম একটি খবর পেয়ে শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় তিনি ঘটনাস্থলে যান। ঈদের ছুটিতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকবেন, এই ধারণা করে কারখানার লোকজন কাজটি করেছিলেন। ছড়া থেকে বর্জ্যের দুই বোতল নমুনা সংগ্রহ করেন তিনি। বিষয়টি তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরকেও জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক মনজুরুল কিবরীয়া বলেন, রোববার দুপুরে কারখানায় গেলে কর্মকর্তারা ইটিপি কার্যকর আছে বলে দাবি করেন। তবে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। দুই ঈদের ছুটিতে এবং প্রচুর বৃষ্টি হলে তারা জমিয়ে রাখা বর্জ্য ছড়ায় ছেড়ে দেয়, যা বিভিন্ন খালের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে হালদায় গিয়ে পড়ে। এতে হালদা দূষিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের কাজ অনৈতিক।

এই প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ছড়ায় বর্জ্য ছাড়ার বিষয়টি তাঁরা শুনেছেন। এখন অফিস বন্ধ। আগামী বুধবার অফিস খুললে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন