বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image
আদালত মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, দখল হওয়া জায়গা উচ্ছেদ করতে এবং সেখানে বর্জ্য না ফেলতে। কিন্তু তিনি কিছুই মানছেন না।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান নির্বাহী, বেলা

পৌর শহরের সব বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে বাঁকখালী নদী ও নদীপাড়ে। এতে ভরাট হয়ে ক্রমে ছোট হয়ে আসছে নদীটি। আবার মেয়র ও পৌরসভার দেখাদেখি বিভিন্ন ব্যক্তিও নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি করছেন।

অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের দায়িত্ব কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মামুনুর রশীদের। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বাঁকখালী নদী দখলের তালিকায় মেয়রের নাম আছে কি না, তা তাঁর জানা নেই। তবে কার নাম আছে, কার নাম নেই, তা জেলা প্রশাসনের কাছে বিবেচ্য বিষয় নয়। নদীর অপদখলের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে কক্সবাজারে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোনাফ সিকদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় মেয়র মুজিবুর রহমানকে আসামি করার পর তিনি আলোচনায় আসেন। ৩১ অক্টোবর মেয়রের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা তুলে নিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পর্যটন শহর কক্সবাজার প্রায় অচল করে দেন। পরদিন ১ নভেম্বর সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করে আরেক দফা দুর্ভোগে ফেলেন সাধারণ মানুষকে।

রক্ষাকর্তার হাতে বিপন্ন নদী

কক্সবাজার জেলার নদীগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, দূষণ রোধ এবং অবৈধ দখল প্রতিকারের জন্য ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা নদী রক্ষা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্য ৩৩ জন। সভাপতি জেলা প্রশাসক। কমিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন মুজিবুর রহমান। এর আগে ২০১৬ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি।

বিআইডব্লিউটিএ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথম অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে। ৫১ জনের ওই তালিকায় ৮ নম্বরে ছিলেন মুজিবুর রহমান। ২০২০ সালের ১৩১ জনের তালিকায়ও তাঁর অবস্থানের হেরফের হয়নি। তিনি শহরের নতুন বাহারছড়া এলাকায় নদীর এক হাজার বর্গফুট জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন।

মেয়র মুজিবুর রহমান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘আমি কোনো নদীর জায়গা দখল করিনি। সব মিথ্যা।’ পরে ঝামেলায় আছেন জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বিআইডব্লিউটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, মেয়র মুজিবুর রহমান এখনো নদীর জায়গা দখল করে আছেন। তাঁর স্থাপনা এখনো উচ্ছেদ করা হয়নি।

পর্যটন শহরে প্রতিদিন উৎপন্ন ১২০-১৩০ টন বর্জ্যও সংগ্রহ করে ট্রাকে করে কস্তুরাঘাট এলাকায় নদীর জায়গায় ফেলা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১২ সাল থেকে এখানে বর্জ্য ফেলা শুরু হয়, যা চলমান রয়েছে। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে কস্তুরাঘাট এলাকায় দেখা যায়, ট্রাকে করে ময়লা নিয়ে আসছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তা সেখানে ফেলা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে ময়লা ফেলার কারণে সেখানে বর্জ্যের পাহাড় হয়েছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ওয়েবসাইটের তথ্য ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁকখালী নদীর প্রশস্ততা ছিল ১২০ মিটার। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত দখলের কারণে নদীর প্রশস্ততা কমে কক্সবাজারের শহরের কোথাও ৫০ মিটার, কোথাও ৬০-৭০ মিটার হয়েছে।

আদালতের নির্দেশনা প্রসঙ্গে কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম তারিকুল আলম কাছে দাবি করেন, নদী বা নদীর জায়গায় কোনো বর্জ্য ফেলা হয় না। পৌরসভার নিজস্ব এবং সরকারি খাস জায়গায় বর্জ্য ফেলা হয়। আর বর্জ্য রাখার জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানতে চাইলে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রথম আলোকে বলেন, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র নিজেই নদীর জায়গা দখল করে আছেন। আবার তাঁর সংস্থা পৌরসভাও আছে দখলের তালিকায়। আদালত মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, দখল হওয়া জায়গা উচ্ছেদ করতে এবং সেখানে বর্জ্য না ফেলতে। কিন্তু তিনি কিছুই মানছেন না। এখন তাঁরা আবার আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন