বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনাটি তৈরিতে পরামর্শ সহায়তা দেওয়া ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ উচ্চাভিলাষী জায়গা থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনাটি করেছে। তবে তা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বাস্তবায়ন করা যায়। কারণ, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে থামিয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাওয়া ঠিক হবে না।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর এ চেষ্টা এ শতাব্দীতে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার জন্য। জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে। একে বলা হয় নিজ উদ্যোগে নিজ দেশের নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি বা এনডিসি। জলবায়ু সম্মেলনটি গত রোববার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনে যোগ দিতে স্কটল্যান্ডে গেছেন।

default-image

বাংলাদেশের পরিকল্পনা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে এবং মতামত নিয়ে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়।

বাংলাদেশ এর আগে ২০১৫ সালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বৈশ্বিক চুক্তির অংশ হিসেবে কার্বন নিঃসরণ ১৫ শতাংশ কমানোর অঙ্গীকার করেছিল, যার ৫ শতাংশ নিজেদের অর্থায়নে এবং ১০ শতাংশ সহায়তা সাপেক্ষ ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এখন বছরে ১০০ কোটি ডলার বা সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র নিরুৎসাহিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, উপকূলীয় এলাকাসহ সারা দেশে বৃক্ষরোপণ, ইটভাটার আধুনিকায়ন ইত্যাদি নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।

অবশ্য ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত কী পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ কমল, তার কোনো হিসাব করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন থেকে প্রতি দুই বছর পরপর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা কতটুকু বাস্তবায়িত হলো, তা পরিমাপ করা হবে।

বাংলাদেশ শর্তহীনভাবে যে হারে কার্বন নিঃসরণ কমাবে, তাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ২৩০ কোটি ডলার বা ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বৈদেশিক সহায়তার শর্তযুক্ত খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার (সোয়া ১২ লাখ কোটি টাকা)।

সিইজিআইসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, দেশে শিল্প উন্নয়ন দ্রুত হচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বাড়বে। যে কারণে বাংলাদেশ এমনভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা করছে, যাতে লক্ষ্য অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণ কমানো যায়। তিনি বলেন, বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি আরও সহজ করলে বাংলাদেশ পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন