বিপন্ন 'ফলস কোবরা'র সন্ধান

মৌলভীবাজারে সন্ধান পাওয়া ফলস কোবরা l প্রথম আলো
মৌলভীবাজারে সন্ধান পাওয়া ফলস কোবরা l প্রথম আলো

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর বনে বিপন্ন প্রজাতির একটি ‘ফলস কোবরা’ সাপের দেখা মিলেছে। বন্য প্রাণী গবেষক ও আলোকচিত্রী তানিয়া খান গত বুধবার এটির দেখা পান।

এ নিয়ে দেশে দ্বিতীয়বার ফলস কোবরা প্রজাতির সাপের দেখা মিলল। তিন বছর আগে ওই বনেই প্রথমবার এ প্রজাতির আরেকটি সাপ দেখা গিয়েছিল। সেবারও সাপটির দেখা পান তানিয়া খান।

তানিয়া খান বলেন, বন্য প্রাণীর ছবি তুলতে গিয়ে গত বুধবার বেলা একটার দিকে তিনি কমলগঞ্জের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের আদমপুর বিট এলাকায় যান। সেখানে একটি বাঁশবাগানের কাছে সাপটির দেখা পান তিনি। এ সময় সাপটি একটি ছড়া পার হচ্ছিল। তখন তিনি ও তাঁর সহকর্মী সাপটিকে আটকে রেখে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করেন। পরে ছেড়ে দিলে সাপটি ছড়া পার হয়ে বাঁশবাগানের দিকে চলে যায়। সাপটির বয়স কম, এখনো ছোট।

বন্য প্রাণী গবেষক ও এই আলোকচিত্রী বলেন, এর আগে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর একই এলাকার প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে একটি ছড়া ও বাঁশবাগানের কাছে তিনি একটি ফলস কোবরার দেখা পেয়েছিলেন। সেবারের সাপটি ছিল আরও পরিণত, অনেক বড়। বাংলাদেশে যেহেতু সাপটির দেখা কম মেলে তাই দেশে এটি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব কনজারভেশন ফর নেচার (আইইউসিএন) ফলস কোবরাকে বিপন্ন তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলস কোবরার বৈজ্ঞানিক নাম Pseudoxenodon macrops.

২০১৫ সালে আইইউসিএন ও বন বিভাগের প্রকাশিত রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ গ্রন্থে বলা হয়েছে, সম্প্রতি মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের আদমপুর বন বিটের একটি ছড়ার কাছে ফলস কোবরা দেখার রেকর্ড রয়েছে। বাংলাদেশে আর কোথাও সাপটি দেখা যাওয়ার বিষয়ে তথ্য নেই। এটি সাধারণত মিশ্র চিরসবুজ বনে ও পাহাড়ি ছড়ার কাছে থাকে। এরা বিশেষ করে ব্যাঙ ও গিরগিটি-জাতীয় প্রাণী খেয়ে থাকে। ইংরেজিতে এটাকে ‘লার্জ আইড ব্যাম্বুøস্নেক’, লার্জ আইড ফলস কোবরা, লার্জ আইড ব্যাম্বু স্নেক, মক কোবরা, চায়নিজ ফলস কোবরা ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। স্থানীয়ভাবে এটাকে ফলস গোখরা, মিছা গোখরা ও বড়চোখী পাহাড়ি সাপ বলা হয়ে থাকে।

তানিয়া খান বলেন, ‘মৌলভীবাজারে কোবরাকে আঠালি বলা হয়। কিন্তু এ রকম (ফলস কোবরা) আঠালি কেউ দেখেনি। বাংলাদেশে সাপটি দেখার দুটি রেকর্ডই আমাদের। সাপটি দেখতে খুবই সুন্দর। লাফিয়ে ফণা তোলে। দেখতে কোবরার মতো। কোবরার বিষ থাকে। কিন্তু এটিতে নাকি বিষ থাকে না। এ কারণে এটিকে ফলস কোবরা বলা হয়ে থাকে। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন। পানি ও মাটিতে সমানভাবে দ্রুত দৌড়াতে পারে।’