default-image

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্রের ‘উপকূলীয় অঞ্চল কি বিলীন হয়ে যাবে?’ শিরোনামে একটি লেখা ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক প্রসঙ্গ নিয়ে এই লেখা আমরা লিখছি। প্রাক্তন ছাত্রদের লেখার পরিপ্রেক্ষিতে লিখতে বসে শিক্ষক হিসেবে আমরা শ্লাঘা বোধ করছি।

অতীতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ছিল প্রাকৃতিক সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বরিশালকে বলা হতো দেশের খাদ্যভান্ডার। কৃষি উৎপাদনে সেই বরিশাল এখন পেছনে পড়ে গেছে। বদ্বীপ গঠনের তাত্ত্বিক বিষয়গুলো আমলে না নিয়ে যত্রতত্র অবাধে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের ফলে বদ্বীপের প্রাকৃতিক পলিপ্রবাহ ও অব‌ক্ষেপণে মাত্রাতিরিক্ত বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে উপকূল অঞ্চলটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার সংকটে পড়েছে।

তবে আমরা মনে করি, উপকূল অঞ্চল বিলীন হয়ে যাওয়ার থেকে বিরান হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এর কিছু আলামত ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেখা গেছে। ২০০১-১১ সময়কালে খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় জনসংখ্যা কমে গেছে। বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে জনসংখ্যা বাড়াই যেখানে স্বাভাবিক, সেখানে এই কমে যাওয়াটা বিস্ময় জাগায়। আরও দেখা গেছে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যখন ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ তখন উপকূলীয় দ‌ক্ষিণাঞ্চলে—বৃহত্তর খুলনা জেলা ও বরিশাল বিভাগে—জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ।

আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূল অঞ্চলের ১৯টি জেলাতেই নিট অভিগমনের হার ঋণাত্মক। ভোলা জেলায় সবচেয়ে বেশি। ২০০১-১১ সময়কালে সেখান থেকে জনসংখ্যার ১১ দশমিক ২ শতাংশ অন্যত্র, মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে অভিগমন করে। সবচেয়ে কম অভিগমনের হার লক্ষ করা গেছে কক্সবাজারে—জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

দ‌ক্ষিণাঞ্চলের উপকূল অঞ্চলে জনসংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে বেশ কিছু গবেষণা হয়েছে। দেখা গেছে, উপর্যুপরি দুর্যোগ, জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, চিংড়ি চাষ, নদীর ভাঙন ইত্যাদি কারণে এলাকাবাসীর অন্যত্র অভিগমনে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উল্লিখিত এলাকায় ২০৫০ সাল নাগাদ জনসংখ্যা আরও ১৩ লাখ কমে যেতে পারে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার প্রতিটি কারণই ভবিষ্যতে তীব্রতর হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

মানুষ কেন কমছে?

ঘূর্ণিঝড়

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূল অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বাড়ছে। নিকট অতীতে পরপর কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়, যেমন বুলবুল, ফণী এবং এ বছর আম্পান দ‌ক্ষিণাঞ্চলকে আঘাত করেছে। এসব ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে দ‌ক্ষিণাঞ্চল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আম্পানের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ডারের ভেতর জোয়ারের পানি অবাধে ঢুকে পড়ায় এলাকায় বসবাস করা লোকজনের প‌ক্ষে কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আম্পানের পর দেখা গেছে, আইলা ও সিডরের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পোল্ডারগুলোর সংস্কার শেষ না হওয়ায় অনেক বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো ঘরে ফিরে আসতে পারেনি।

এ বছর অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণেও উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে ভোলা ও বরগুনা জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু জায়গায় পোল্ডার ভেঙে বা উপচানো পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। লোকজনকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাঁধ ও রাস্তায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্যে তাদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। অনেকেই জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী হচ্ছে।

পুরোনো বাঁধ

বাংলাদেশের উপকূলীয় পোল্ডারগুলো অনেক পুরোনো। বেশির ভাগেরই বয়স ৫০-৬০ বছরের বেশি। এগুলো মাটির তৈরি হওয়ায় এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। উপরন্তু চিংড়ি চাষের সুবিধার্থে লবণপানি ঢোকানোর জন্য যত্রতত্র বাঁধের ভেতরে ছিদ্র করা বা পাইপ বসানোর ফলে এগুলো ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। ফলে পোল্ডারগুলোর অস্বাভাবিক জোয়ার কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

বিজ্ঞাপন

নদী ভরাট

এসব পোল্ডার করার পর থেকে নদীগুলোতে ব্যাপক হারে পলি পড়তে শুরু করে এবং হামকুড়া ও ভদ্রার মতো অনেক নদী সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে যায়। অন্যদিকে পোল্ডারের ভেতরে পলি পড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাশের নদীর তুলনায় পোল্ডারের ভেতরের জমি ক্রমান্বয়ে নিচু হয়ে পড়তে থাকে। এতে বহু এলাকায়, বিশেষ করে মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতেও জলাবদ্ধতা শুরু হয়। ১৯৮০–৯০–এর দশকে এ জায়গা বছরব্যাপী জলাবদ্ধতার শিকার হতে শুরু করে। তখন থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন পদ‌ক্ষেপ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি লক্ষ করা যায়নি। এ বছরও ওই এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।

চিংড়ি চাষ

১৯৮০–এর দশকে চিংড়ি চাষ শুরু হওয়ার পর অঞ্চলটির পরিবেশের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। বহু এলাকা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে থাকে। উপকূল অঞ্চল মূলত ধান চাষ, মাছের উন্মুক্ত প্লাবনভূমি এবং গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। চিংড়ি চাষের জন্য লবণাক্ত পানি ঢোকানোর ফলে আগের ভূমি ব্যবহার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব গাছপালা মরে গিয়ে এলাকা বিরানভূমির রূপ নেয়।

চিংড়ি চাষের আরেক নেতিবাচক দিক হলো, এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। ফলে কাজের খোঁজে এবং এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেকেই শহরমুখী হতে বাধ্য হয়েছে।

লবণাক্ততা

লবণাক্ততা বৃদ্ধি উপকূল এলাকার, বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলের আরেক সমস্যা, যা ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠেছে। এ সমস্যার সূত্রপাত ভারতের ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে পানি সরানোর সময় থেকে। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিংড়ি চাষের জন্য লবণাক্ত পানির ব্যবহার এবং জলবায়ুজনিত অভিঘাত। ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাস এ সমস্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সুপেয় পানির তীব্র সংকট কয়রা, শ্যামনগর, দাকোপ ইত্যাদি এলাকা মানুষের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রতিকার কী

উপকূলকে বসবাসের উপযোগী রাখার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। উপদ্রুত এলাকা রক্ষা করার জন্য নিচের উদ্যোগগুলো নেওয়া জরুরি।

বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও সুদৃঢ় করা

এসব এলাকার বেশির ভাগ বাঁধই ব্যবহারের অনুপযোগী। এখন একেবারে নতুন করে সেখানে বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। আগের জীর্ণ বাঁধের ওপর আবার বাঁধ বানালে তা টেকসই হবে না। আধুনিক কারিগরি জ্ঞান আর কৌশল নিয়ে বাঁধগুলো সুদৃঢ় করা দরকার। ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডরের পর যে বাঁধগুলো সুদৃঢ় করা হয়েছে, সেসব সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের সময় বেশি সুরক্ষা দিয়েছে।

সুদৃঢ় করার সময় বাঁধগুলো উঁচু করার মোটেই প্রয়োজন নেই। আমাদের ইনস্টিটিউটে পরিচালিত গবেষণা বলছে যে বাঁধগুলো বর্তমান নকশার মান অনুযায়ী উঁচু করলেই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েছে বলে এ মুহূর্তে বাঁধের উচ্চতা বাড়ানো জরুরি নয়। উচ্চতা বাড়াতে গেলে বাঁধের ভিত্তিভূমি যতটুকু প্রশস্ত করা দরকার, সে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে গেলে নানা জটিলতা সৃষ্টি হবে। বরং যেখানে জমি পাওয়া যাবে, সেখানে বাঁধের সামনে বনায়ন করলে তা অনেক বেশি উপকারে আসবে। এ রকম বন জলোচ্ছ্বাসের প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বাঁধকে কিছুটা হলেও রক্ষা করবে।

বাঁধগুলো পুনর্নির্মাণের সময় সর্বাধুনিক এবং যথেষ্ট চওড়া ও বেশি সংখ্যায় জলকপাট রাখতে হবে। উপকূলের বহু অঞ্চলে জলকপাটগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জলকপাটগুলো সচল রাখার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচিত পর্যাপ্ত সংখ্যায় খালাসি নিয়োগ দেওয়া।

পোল্ডারের ভেতরের মৃতপ্রায় নদী, খাল, বিল ইত্যাদি পুনঃখনন করে সচল করা দরকার, যাতে বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধ পরিস্থিতি না হয়। নদী ও খালে মাছ চাষের জন্য সব বাধা উচ্ছেদ করে সারা বছর সেসব সচল রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
default-image

নদী সচল রাখা

বাঁধের বাইরের নদীগুলো ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সব সময় সচল রাখতে হবে। উপকূলীয় নদী প্রচুর পরিমাণে পলি বহন করে। সে কারণে ড্রেজিংয়ের পর খুব অল্প সময়েই নদী আবার ভরাট হয়ে যায়। ড্রেজিং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সে জন্য যেখানে সম্ভব নদীর প্রাকৃতিক শক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। প্রথম আলোয় এর আগে প্রকাশিত প্রবন্ধে অবাধ জোয়ার–ভাটা ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এটি একধরনের প্রাকৃতিক সমাধান। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের একটি গবেষণায় এ রকম জোয়ার–ভাটার জন্য সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

গঙ্গা ব্যারাজ

নদীর বুক সহজেই পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণ আছে। কারণ, ফারাক্কা বাঁধের জন্য ওপর থেকে পানি আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে ওপর থেকে পানির চাপে প্রাকৃতিকভাবে পলি সরার পথ অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। উপরন্তু ওপর থেকে স্বাদু পানির প্রবাহ না থাকায় নদীর লবণাক্ততা ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। লবণাক্ততা বাড়লে পলি জমার হার অনেক বেড়ে যায়। ভারতের সঙ্গে আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে ফারাক্কা থেকে আরও পানি পাওয়ার চেষ্টা আমাদের করতে হবে। তবে সেটার জন্য আমাদের বসে থাকলেও চলবে না। আমাদের জরুরিভাবে হাতে নিতে হবে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের কাজ। বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০–এ প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বস্তুত দ‌ক্ষিণাঞ্চলকে বাঁচানোর জন্য এ প্রকল্পের আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে লক্ষ রাখতে হবে, গঙ্গা ব্যারাজ যেন গঙ্গার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর না হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, ইলিশের যাতায়াত সুগম করার জন্য গত বছর ফারাক্কা বাঁধের দুটি কপাট পরিবর্ধন করা হয়েছে। পরিকল্পনার সময়ই এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে পরিবেশের ক্ষতি যেমন অনেক কমানো সম্ভব, তেমনই পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের বিড়ম্বনা ও খরচের হাত থেকে বাঁচা যায়। কারিগরি জ্ঞান ও প্রাকৃতিক জ্ঞানের মিশেলেই কেবল এ ধরনের বড় অবকাঠামো যুক্তিসংগত করা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন
default-image

প্যারাবন রক্ষা

সুন্দরবনসহ সৃজিত ম্যানগ্রোভ বা প্যারাবন উপকূল অঞ্চলের রক্ষাকবচ। চট্টগ্রাম অঞ্চলের একমাত্র ম্যানগ্রোভ বনভূমি চকরিয়া সুন্দরবন গত শতকেই চিংড়িচাষিরা সম্পূর্ণভাবে নিধন করেছেন। অন্যান্য প্যারাবন যেন এ ধরনের ক্ষতির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের বনভূমি প্রাকৃতিকভাবে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে উপকূলকে রক্ষা করে। ২০০৪ সালের সুনামির পরে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সুনামিজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য বাংলাদেশের অনুকরণে প্যারাবন সৃজনের দিকে নজর দিয়েছে।

প্রকৃতিবান্ধব ভূমি ব্যবহার

উপকূলীয় ভূমি ব্যবহার প্রকৃতিবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। ধান, মাছ ও গবাদিপশু—এই তিনের মিশ্রণে ভূমির ব্যবহার প্রয়োজন। যেখানে যা প্রযোজ্য, সেখানে তা–ই করা দরকার। প্রাকৃতিকভাবে যেখানে চিংড়ি চাষ সম্ভব, শুধু সেখানেই তা করতে দেওয়া উচিত। জোর করে লবণপানি পোল্ডারের ভেতরের আবাদি জমিতে ঢুকিয়ে চিংড়ি চাষ সর্বতোভাবে পরিহার করা দরকার।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যৎ কোথায়?

আমাদের নানা গবেষণায় দেখা গেছে, এভাবেই চলতে থাকলে, অর্থাৎ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দ‌ক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাবে এবং সেখান থেকে অন্যত্র চলে যাওয়া ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে। আশঙ্কা করা অমূলক হবে না যে এলাকাটি ক্রমেই বিরানভূমির রূপ নেবে। এর কিছু আলামত ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে। সমন্বিত পরিকল্পনা এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণই কেবল এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে পারে। কেবলই কারিগরি সমাধান মোটেই টেকসই হবে না। আবার শুধু প্রকৃতিনির্ভর সমাধান আমাদের দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় বাস্তবসম্মত নয়। এই দুইয়ের সমন্বয়েই কেবল টেকসই সমাধান বের করা সম্ভব।

রেজাউর রহমান, মুনসুর রহমান, মাসফিকুস সালেহীন ও আনিসুল হক, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক।

মন্তব্য পড়ুন 0