default-image

খাগড়াছড়ির পানছড়ির চেঙ্গীপাড়ের মানুষের দিন কাটছে আতঙ্কে। দিন দিন বাড়ছে ভাঙন। হুমকির মুখে রয়েছে বসতঘর, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মানিক্যপাড়া, কর্মপাড়া, উত্তর শা‌ন্তিপুর, দ‌ক্ষিণ শা‌ন্তিপুর, ঝাগুরনালা, উগলছড়ি, কেরেতছড়ি, বাবুরপাড়া, মোল্লাপাড়া ও নালকাটা এবং সদর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর, চৌধুরীপাড়া, তালুকদারপাড়া, কলোনিপাড়া, বগাপাড়ায় প্রায় ৯ কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহের ভারী বর্ষণে অনন্য কুটির-পানছড়ি বাজার সড়কের কর্মপাড়া এলাকায় প্রায় ২০০ ফুটের মতো ভেঙে গেছে। এ ছাড়া ভাঙনের মুখে রয়েছে শান্তিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহাম্রাইমুনি বৌদ্ধবিহার ও বিভিন্ন এলাকার ১৬টি ঘরবাড়ি। 

স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানান, চেঙ্গী নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। এসব দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রায় সময় ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এলেও শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান কোনো পদক্ষেপ নেন না। 

শা‌ন্তিপুর এলাকার কমলা রানী চাকমা বলেন, ‘নদীর পানি বাড়লে আতঙ্কে থাকি কখন বসতঘর ভেঙে যায়।’

চৌধুরীপাড়ার প্রবীণ শিক্ষক মংসাথোয়াই চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছরে চৌধুরীপাড়ার শতবর্ষী বৌদ্ধ মন্দিরের দুটি শতবর্ষী গাছসহ দেড় একর জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে মন্দিরটি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

শা‌ন্তিপুর, চৌধুরীপাড়া ও বগাপাড়াসহ চেঙ্গী নদীপাড়ের এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, শা‌ন্তিপুর এলাকায় রাবার ড্যাম স্থাপনের আগে ভাঙন এত তীব্র ছিল না। রাবার ড্যাম স্থাপনের পর নদীতে প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট পানি বেড়ে পাঁচ থেকে ছয় মাস আটকে থাকে। এত নদীর পাড়ের মাটি নরম হয়ে যায়। বর্ষার আগে যখন ড্যামের পানি ছেড়ে দেওয়া হয় তখন নদীর পাড় ভাঙতে থাকে।

উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয় বিকাশ চাকমা বলেন, উল্টাছড়ি ইউনিয়নের প্রায় ১১টি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দু-এক বছরের মধ্যে যদি কর্মপাড়া এলাকায় ভাঙন রোধ করা না যায়, তাহলে পানছড়ি-অরণ্য কুটিরের সড়কটি বিলীন হয়ে যাবে।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, চেঙ্গী নদীর পাড়ের ভাঙনকবলিত স্থানগুলোর একটি তালিকা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে পাঠানো হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আফসার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘চেঙ্গী নদীসহ জেলার সকল ছড়া ও নদীর পাড়ের ভাঙন রোধে খাগড়াছড়ি শহর ও জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদী ভাঙন হতে রক্ষা’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন