default-image

উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে মানিকগঞ্জে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর। করোনার মধ্যেই বন্যার কারণে চরম দুর্দশায় পড়েছে দুই লক্ষাধিক বানভাসি মানুষ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলার দৌলতপুর, হরিরামপুর এবং শিবালয় উপজেলার নিচু এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়। পরে যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ায় সপ্তাহখানেক পর ওই তিন উপজেলার পানি কমতে শুরু করে। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আবার যমুনা ও পদ্মায় পানি বাড়তে শুরু করে। এতে উপজেলা তিনটিতে আবার প্রবল বেগে বন্যার পানি ঢোকে। জেলার অভ্যন্তরে কালীগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীতেও অস্বাভাবিক পানি বাড়তে থাকে। এতে গত সোমবার থেকে ঘিওর, জেলা সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিঙ্গাইরে বন্যা দেখা দেয়নি।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা তিনটায় শিবালয়ের আরিচা পয়েন্টে যমুনায় বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। হরিরামপুর উপজেলার আন্ধারমানিক পয়েন্টে ৭৮ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া জেলা সদরের তরা পয়েন্টে কালীগঙ্গা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকবলিত ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই উঁচু মাচা তৈরি করে থাকছেন, সেখানে রান্নাবান্নার কাজ করছেন। কেউ কেউ বাড়িঘর তালা দিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
গতকাল জেলা সদরের দিঘী গ্রামে পানি ঢুকেছে। সেখানকার বাসিন্দা ফারুক হোসেন ঘরের ভেতর চৌকি উঁচু করে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে আছেন। চৌকির একপাশে চলছে রান্না।
ঘিওর উপজেলার ঘিওর মাস্টারপাড়া এলাকার সাচ্চু মিয়ার (৫৫) ঘরের ভেতর প্রায় হাঁটুপানি। এতে চরম দুর্ভোগ পড়েছে পরিবারটি। সাচ্চু মিয়া বলেন, ‘নোংরা পানি। পানিতে নামলেই হাত-পা চুলকাতে থাকে। পানি না মাড়িয়েও উপায় নাই।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৮৯টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১৯৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ উঠেছে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ২৬০ মেট্রিক টন চাল, দেড় লাখ প্যাকেট শুকনো খাবার, শিশুখাদ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং গো-খাদ্যের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের আগে ১ লাখ ৭০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় মানুষের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে চাল, শিশু ও গো-খাদ্য ও নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন