শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত চার দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এদের বেশির ভাগই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। এ ছাড়া প্রতিদিন আরও অনেক শিশু ভর্তি হচ্ছে। আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার ছিল ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গতকাল রোববার ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই সময় শীতজনিত রোগ, বিশেষ করে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশির ভাগ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার ৩৭ জন করে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শনিবার ৫১ জন ও গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত ২৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মারা গেছে নয়জন, শুক্রবার ছয়জন, শনিবার পাঁচজন ও গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত মারা গেছে তিন শিশু। এদের বয়স এক দিন থেকে ১৭ দিনের মধ্যে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪, ৩৭, ২৭ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অসুস্থ শিশুদের ভর্তি করা হয়। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে নবজাতক শিশুদের ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে গত বৃহস্পতিবার মোট ভর্তি হওয়ার শিশুর সংখ্যা ছিল ৬২ জন। গত শনিবারে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮১ জনে। এই ওয়ার্ডে গত শনিবার রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা গ্রামের আদরী বেগম তার ১০ মাস বয়সী শিশুকে ভর্তি করেছেন। তিনি বলেন, ডায়রিয়া কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন বলেন, শীতের কারণে অসুস্থ শিশু ভর্তির হার স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি। একই কারণে মৃত্যুর হার প্রতিদিন গড়ে যা থাকে তার চেয়ে একটু বেশি। তবে চিকিৎসার কোনো সংকট নেই বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন