নীলফামারীতে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতির গত শুক্রবার উন্নতি হলেও এখনো বিপৎসীমার ওপরে পানি ওঠানামা করছে। এ অবস্থায় বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া লোকজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলসহ মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে লালমনিরহাট জেলার চারটি প্রধান নদী তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজান ও রত্নাইসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে ১১টি ইউনিয়নের ৬৬টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদীবেষ্টিত খালিশাচাপানী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমজান আলী বলেন, ওই ওয়ার্ডের পূর্ব বাইশপুকুর, পশ্চিম বাইশপুকুর ও কিষামত সতিঘাট গ্রামে বন্যায় ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমলেও মাঝেমধ্যে ঢল আসছে। এই পরিস্থিতিতে বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলো বাড়িঘরে ফিরেছে।
খালিশাচাপানি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শামসুল হক হুদা বলেন, তাঁর ইউনিয়নে ১ হাজার ৬০০ বন্যাকবলিত পরিবারের জন্য দুই দফায় সাড়ে চার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছেন, যা খুবই কম। একই উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, তাঁর ইউনিয়নের এক হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দুই দফায় সাড়ে তিন টন চাল ও পাঁচ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। গতকাল শনিবার আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকেলে পানি কমে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে নামে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে লালমনিরহাট সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার ৫৭ হাজার ২২৮ জন মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। এর মধ্যে হাতীবান্ধার ক্ষতিগ্রস্ত ৩৭ হাজার ৭৩২ জন মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ৩৫ মেট্রিক টন জিআরের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অন্য দুই উপজেলায় ত্রাণ বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ পরিমাপক (গেজ রিডার) নূরুল ইসলাম বলেন, গতকাল সকালে পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ও দুপুরে বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং বিকেলে বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0