লালমনিরহাট সদর, কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার রাতে শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া অনেকের ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাফায়েত হোসেন বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তিনটি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ৬৩৮ হেক্টর জমির বোরো ধান, ১৩৭ হেক্টর জমির পাট, ১০৬ হেক্টর জমির শাকসবজিখেত ও ৯০ হেক্টর জমির ভুট্টাখেতের ক্ষতি হয়েছে।
সদর উপজেলার মোগলহাটের দুড়াকুটি গ্রামের আবদুল কাইয়ুম (৫৭) বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে আমার বাড়ির চারটি টিনের চৌচালা ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। আমরা সারারাত ঘুমাতে পারিনি। সবাই ব্যস্ত শনিবারের ইউপি নির্বাচন নিয়ে, আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসেনি।’ প্রায় একই রকম কথা বলেন ক্ষতিগ্রস্ত অন্য ব্যক্তিরাও। একই উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ২ একর ২০ শতক জমিতে লাগানো বেগুন, মরিচ, করলা ও ধানের যে ক্ষতি হলো, তা আমি কেমন করে পোষাব?’ একই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ছাবেদ আলী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তাঁর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের শাকসবজির খেতের ক্ষতি হয়েছে।
একটি বীজ উৎপাদন কোম্পানির কৃষি বিশেষজ্ঞ ইশরাত হোসেন বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে সদর উপজেলার শুধু মোগলহাট ইউনিয়নেই আমাদের চুক্তিবদ্ধ ২০০ কৃষকের বিভিন্ন শাকসবজির বীজের খেতের ক্ষতি হয়েছে, তার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’
লালমনিরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী ও লালমনিরহাট পৌরসভা এলাকার দুই হাজার পরিবার পুরোপুরি এবং এক হাজার পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এম হাবিবুর রহমান বলেন, শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন