কয়েক দিনের কুয়াশা এবং তীব্র শীতে কাবু বরিশাল নগর। শীতে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। অনেকে ঘর থেকে বের না হলেও কাজের সন্ধানে নিম্নবিত্তদের ছুটতে হচ্ছে ঠিকই।
সরেজমিনে নগরের কাউনিয়া এলাকার মরকখোলার পুল, স্টেডিয়াম কলোনি, পলাশপুর কলোনি, ভাটার খাল, চানমারী বস্তি, আমানতগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, ছিন্নমূল লোকজন সড়কের পাশে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। অনেকে শীতে জবুথবু হয়ে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে আছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৭ ডিসেম্বর বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৮ ডিসেম্বর ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও গতকাল সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক শূন্য ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গতকাল অল্পবিস্তর সূর্যের দেখা মিললেও বেশির ভাগ সময় ছিল কুয়াশায় ঢাকা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে বাতাস। ফলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।
নগরের মরকখোলার পুল এলাকায় কথা হয় শ্রমজীবী নারী রহিমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কী করমু, ঘরে চাউল নাই, কাম না করলে খামু কী? নাইলে এই শীতে কেউ ঘরেগোনে বাইরায়। কিন্তু কাজও পাইতাছি না।’ একইভাবে কাজের সন্ধানে বের হয়েছেন কাউনিয়া পুরানপাড়া এলাকার মিনারা বেগম, ব্রজমোহন কলেজ এলাকার বৈদ্যপাড়ার আনোয়ারা খাতুনসহ অনেকে।
নগরের পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী মনোরঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘আইজগো লাহান (মতো) কাল আর পড়ে নাই। শীতের চোডে দোকানই খোলতে পারি নাই।’
ভাটার খাল বস্তির আমিরুন্নেছা বলেন, ‘শীতের চোডে ভাত খাইতেও পারি নাই। শরীরে অসুখ, হ্যার উপর এই শীত, বাঁচমু বা মরমু কইতে পারি না।’
ভাটার খাল বস্তির মাছ বিক্রেতা মোসলেম আলী হাওলাদার বলেন, ‘যারা কাজকর্ম করে তারা তো কিছু জামাকাপড় কিনতে পারে। যারা কিনতে পারে না তারা আগুন জ্বালাইয়া শরীর গরম করার চেষ্টা করে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা বস্তি ও নিম্ন আয়ের মানুষের। তাদেরও ভরসা করে থাকতে হয় রোদের জন্য। কিন্তু কয়েক দিন ধরে রোদও তেমন ওঠে না।’
এদিকে শীতের কারণে কষ্ট পাচ্ছেন বৃদ্ধরা। ৭০ বছর বয়সী অজুফা বেগম বলেন, শীতে তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়েছে। একই কথা জানান চানমারী বস্তির নাসিমা বেগম, রিজিয়া বেগম, মফেজ তালুকদারসহ কয়েকজন। ভাটার খাল বস্তির আমিরুন্নেসা বলেন, ‘শীতের চোডে ভাত খাইতেও পারি নাই। শরীরে অসুখ, হ্যার ওপর এই শীতে বাঁচমু বা মরমু কইতে পারি না।’
বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পরিদর্শক প্রণব কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড কুয়াশা এবং বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা বাড়ছে। তা ছাড়া সূর্যের আলো না থাকার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্রা তেমন কমেনি।

বিজ্ঞাপন
পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন