বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নামের শেষ লাতিন শব্দটি হলো গ্যানজেটিকা। এই উদ্ভিদের উৎপত্তিস্থল হলো ভারতীয় উপমহাদেশের গাঙ্গেয় সমভূমি এলাকা। বিশ্বে দুটো উপপ্রজাতি রয়েছে। অন্য উপপ্রজাতির বিস্তার আফ্রিকাতে। ভারতীয় এবং আফ্রিকার মহাদেশীয় প্লেট একসময় একসঙ্গে ছিল। সম্ভবত ভারতীয় প্লেট অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে দুটি উপপ্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে। জিওগ্রাফিক আইসোলেশনের কারণে অনেক নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।

গঙ্গাতারা একেন্থেসিসি পরিবারের উদ্ভিদ। ফুলের গঠনশৈলী আমাদের গ্রামবাংলার পথের ধারে ফোটা বাসক ফুলের মতো। উদ্ভিদ বীরুৎ, উচ্চতা প্রায় ১ মিটার হয়। ফুল অপ্রতিসম, পাপড়ি সাদা, তাতে নীল ছিট থাকে। পাতা সরল এবং বিপরীত। ফল সবুজ, পরিপক্ব হলে শুকিয়ে বাদামি হয়ে যায়। দুটো উপপ্রজাতির একটি এশিয়া এবং অপরটি আফ্রিকাতে। এশিয়ার উপপ্রজাতিটি বাংলাদেশে এখনো দেখতে পাইনি। তবে আফ্রিকার উপপ্রজাতিটি চট্টগ্রাম শহরেই প্রথম দেখি।

গঙ্গাতারা একটি শোভাময় উদ্ভিদ হিসেবে নানান দেশে লাগানো হয়েছে। তা ছাড়া আফ্রিকার কিছু দেশে পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং ভেষজ ওষুধে পাতা ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে নাইজেরিয়াতে। গঙ্গাতারার ফুল ও পাতা প্রজাপতি, মৌমাছি ও অন্যান্য মধুপায়ী পোকামাকড়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আফ্রিকায় অন্তত সাত প্রজাতির প্রজাপতি ও মথের লার্ভা গঙ্গাতারাপাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে। আমাদের দেশি প্রজাপতি ও মথের এ উদ্ভিদটির ওপর নির্ভরশীলতা নিয়ে গবেষণা হতে পারে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন