বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সামুদ্রিক কাছিমের জীবনে ডিম পাড়ার সময়টুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নানা রকমের শঙ্কায় এই কাজটুকু তাদের করতে হয়। ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ফুটতে সময় লাগে ৫০-৭০ দিন। রাতের আঁধারেই বাচ্চাগুলো ফিরে যায় সাগরে। সে সময় মা-বাবার কোনো যত্ন তারা পায় না। বাচ্চাগুলো সুস্থভাবে বেঁচে থাকলে তারা আবার প্রায় এক যুগ পর একই অঞ্চলে ফিরে আসার চেষ্টা করে। মায়ের পথ অনুসরণ করে ডিম দিয়ে যায় সৈকতে। এভাবেই তাদের জীবনচক্র চলতে থাকে।

বাংলাদেশে পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিমের সব কটি বিশ্বব্যাপী বিপন্ন অবস্থায় আছে। সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে অলিভ রিডলি কাছিম। তিন জাতের কাছিম বাংলাদেশের সীমানায় ডিম পাড়ে বলে তথ্য পাওয়া যায়। আমাদের সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার সবচেয়ে ভালো জায়গা হলো সোনাদিয়া, সেন্টমার্টিন, টেকনাফ আর সুন্দরবনের উপকূলীয় কিছু চর। এসব দ্বীপের বালুচরগুলো মানুষের দখলে চলে যাচ্ছে। রাতে ডিম পাড়তে এলে কুকুর আর শিয়ালের অত্যাচারে মারা পড়ে কাছিম। খুঁজে খুঁজে ডিমগুলো খেয়ে ফেলে।

কাছিম রক্ষায় এ দেশে খুব বেশি উদ্যোগ নেই। গত দুই যুগে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা দেড় লাখের মতো অলিভ রিডলি কাছিমের ডিম হ্যাচারিতে ফুটিয়ে বাচ্চা ছেড়ে দিয়েছিল। খুবই ভালো উদ্যোগ। তবে এর কত ভাগ কাছিম বেঁচে গেছে, তার গবেষণা বা তথ্য আমাদের হাতে নেই। যদি এ পরিমাণ কাছিম বেঁচে যেত, তাহলে আরও বেশিসংখ্যক মা কাছিমের ডিম পাড়তে সৈকতে আসার কথা।

বাংলাদেশে অলিভ কাছিমের পিঠে স্যাটেলাইট যন্ত্র বসিয়ে এর গতিবিধি দেখা হচ্ছে। আমাদের কাছিমগুলো আসলে বঙ্গোপসাগরের অঞ্চলসহ ভারত সাগরেও বিচরণ করে। কাছিমগুলোর চলাচলের পথসহ তাদের পুরো বিচরণক্ষেত্রের তথ্য এখন জানা যাচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণত এদের প্রজননকাল অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত জানা থাকলেও এখন গবেষকেরা বলছেন, প্রায় বছরজুড়েই এদের প্রজনন করতে দেখা যায়।

অলিভ রিডলি কাছিম খুবই নিরীহ এক প্রাণী। তবে গত তিন দশকে পৃথিবী থেকে ৩০-৫০ ভাগ এ জাতের কাছিম কমে গেছে, যার বেশির ভাগই জালে আটকা পড়ে। শত অত্যাচারের পরও ওরা ফিরে আসে তাদের ভালোবাসার দ্বীপগুলোতে। আমাদের দেশের সোনাদিয়া আর সেন্টমার্টিন কাছিমের খুবই প্রিয় দ্বীপ। মানুষের কাছেও এই দ্বীপগুলো প্রিয়, বিশেষ করে পর্যটকদের কাছে। আর মানুষের বিচরণ বেশি বলেই এই কাছিমগুলো এখন বড়ই অসহায়।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন