বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রায়হান, রোমান আমার খুবই পরিচিত। মা–বাবাসহ করোনাকালের শুরু পর্যন্ত ওরা মান্ডার ভাড়া বাসায় থাকত। মান্ডা বিলের ডাহুক, বক, মুনিয়াসহ নানা প্রজাতির পাখির পেছনে লেগে থাকত ওরা। মান্ডায় ছিল আমার নিত্য যাতায়াত—ঘুরতে যেতাম ওখানে। যেতাম ওদের বাসায়। ভয়ানক দুষ্টু ছিল ওরা। মাছ ধরত, কচ্ছপ ধরত। তো করোনাকাল শুরু হলে ওরা ভয়ে চলে যায় গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ীতে। প্রায়ই ফোনে কথা হয় ওদের বাবা রোহেলের সঙ্গে, ওদের মায়ের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে কথা হয় ওই এলাকার পাখি নিয়েও। আমিও আর মুগদার বাসা থেকে মান্ডায় যাই না এখন করোনার ভয়ে। গত জুনের ১৩ তারিখে তাঁরা আমাকে এই পাখির কথা জানান।

রায়হান-রোমানের দেখা ‘উড়ন্ত সাপটি’ ছিল এক প্রজাতির দুর্লভ মুনিয়া পাখি। নাম সাদাপিঠ মুনিয়া বা সাদাকোমর মুনিয়া। ইংরেজি নাম White-rumped munia। বৈজ্ঞানিক নাম Lonchura striata। দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার, ওজন ১২ গ্রাম। বুক, পেট ও পিঠের নিচের দিকটার রং তুলোট সাদা। ঘাড়, বুক, গলা, পিঠ ও মাথার রং কালচে বাদামি। টলটলে চোখের পাশটাসহ মুখমণ্ডল কালো। পিঠে সূক্ষ্ম রেখা আছে, রং বাদামি। ছোট, হালকা-পাতলা ঠোঁট ও পা নীলচে রঙের। ডাকটা এদের মিষ্টি—‘টুইটারিং টুইটারিং টির টির’ ধরনের। কালচে লেজটি এরা দোলায়, নাচায় প্রজনন মৌসুমে। জোড়ায় জোড়ায় চলে। ছোট বা বড় দলেও চরে। চরে অন্যান্য ছোট পাখির সঙ্গে মিশেও, খাদ্যের জন্যই এই দলবদ্ধতা। এরা যখন ঝাঁক বেঁধে উড়ে-ঘুরে আর দুলে দুলে নাচতে নাচতে সমস্বরে ডাকে, তখন দেখতে ভালোই লাগে।

এদের মূল খাদ্য নানান রকম শস্যদানা ও বীজ। বাসা বাঁধার মৌসুম গ্রীষ্মকাল থেকে হেমন্তকাল পর্যন্ত। ডিম পাড়ে ৩ থেকে ৬টি। ডিম ফুটে ছানা হয় ১০-১৪ দিনে। উড়তে শেখার পর মা-বাবার সঙ্গে যখন শস্যখেত বা ঘাসবনে যায় ও খিদের কান্না ছড়ায়, তখন অনেক সময় ছানা সোনাব্যাঙের কবলে পড়ে প্রাণ হারায়। বড়রাও অনেক সময় সোনাব্যাঙের কবলে পড়ে। গুইসাপ, বেজি, বনবিড়াল ও দাঁড়াশ সাপের কবলেও পড়ে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন