বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঝুম বৃষ্টি নামল দুপুর ঠিক ১২টায়। দৌড়ে গিয়ে ঢুকলাম অফিস ভবনের ভেতর, বসলাম সোফায়। চেনাজানা একজন এল, তার ছাতা নিয়ে আবার ফুলবাগানে। খুব কাছে গেলাম বাসাটার। বাবা বা মা পাখি চারটি ছানাকে বুক-পেটে আগলে আর পাখা দুখানাকে অনেকটাই ছাতার মতো মেলে ধরে ছানা চারটিকে বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচাতে চাইছে। আমি নিশ্চিত, উড়বে না পাখিটা, ভয় ওটা পাচ্ছে, কিন্তু ছানাগুলোকে বৃষ্টির পানিতে ভিজতে দেবে না অত সহজে। যদিও বৃষ্টিতে ভিজলে এই বয়সী ছানাদের কিছুই হয় না। পাখিটার এক চোখে ভয় আর অন্য চোখে সন্তানস্নেহ।

সিপাহি বুলবুল! আহারে সৌন্দর্য পাখিটির শরীরে! বেশি সুন্দর বোধ হয় মাথা-কপালের ওপরকার লম্বা-খাড়া চকচকে কালো রঙের ঝুঁটিটা। গলার তুলট-সাদা পালকগুলো ফুলে ফুলে দুলে দুলে ওঠে গান গাওয়া বা ডাকার সময়। সে এক দারুণ সৌন্দর্য! চোখের নিচটার টকটকে আলতার মতো রংটাও দারুণ সুন্দর। ঘাড় থেকে বুকের পাশ অবধি নেমেছে চওড়া কালো রং। বুক-পেট সাদাটে। পা ও ঠোঁট কালো। ঘাড়-পিঠ কালচে বাদামি। মূল খাদ্য নানান রকম ছোট ফল, ফুলের মধুরেণু, পোকামাকড়সহ লার্ভা, শুঁয়াপোকা, গাছের বাকলের তলার পোকা ইত্যাদি। ঢাকা শহরের নিরিবিলি পার্ক-উদ্যানের ফুলবাগানের পছন্দসই গাছের মাথায় (চার-সাত ফুট উচ্চতায়) বসন্ত-হেমন্তে বাসা করে। ডিম পাড়ে দু-চারটি। ফোটে ১৪-১৮ দিনে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণেও বাসা দেখা যেতে পারে। গ্রামবাংলায় বাসা করে এরা ঝোপঝাড়ের মাথায়। অতি অল্পতেই অসম্ভব উত্তেজিত হয়ে ওঠে, দারুণ চিৎকার-চেঁচামেচি ও লাফালাফি করে। শত্রুকে যেমন দাঁড়াশ সাপ-গুইসাপ-বেজি-বনবিড়ালকে এরা প্রবল বিক্রমে ও চতুরতা খাটিয়ে বাচ্চার সীমানা থেকে হটিয়ে দেয়। বাসা করার পরই এক জায়গায় থিতু হয়। এমনিতে ভবঘুরে স্বভাবের পাখি এরা।

চালচলনে একটা আভিজাত্য থাকা ও সারা বাংলাদেশে দেখতে পাওয়া সিপাহি বুলবুলিরা সিপাহি, সেনাপতিসহ আরও অনেক নামে পরিচিত। দৈর্ঘ্য ২০ সেন্টিমিটার। ওজন ২০ গ্রাম। রাজবুলবুলি নামেও পরিচিত দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে। এদের বাসায় চুরি করে ডিম পাড়ে কোকিল। ইংরেজি নাম রেড হুইস্কারড বুলবুল। বৈজ্ঞানিক নাম Pycnonotus jocosus.

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন