গত এক–দুই দিনে দেশের হাওর এলাকায় উজান থেকে ঢলের পানি কমে আসছিল। যদিও আগের ঢলে আসা পানি নতুন নতুন হাওরে প্রবেশ করে। আজ মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সিলেটের সুরমা ও সুনামগঞ্জের খালিয়াজুড়ি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নতুন করে আবার ঢল এলে হাওরের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের উজানে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শুক্রবার পর্যন্ত চলতে পারে। ঢাকাসহ দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে।

গতকাল সারা দিন দেশের হাওর এলাকা নেত্রকোনা, সিলেট ও কুড়িগ্রামে বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আকাশে কিছুটা মেঘ ছিল। আজ থেকে দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে মেঘ বেড়ে গিয়ে গরমের প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।
বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপদাহ ও এর কাছাকাছি তাপমাত্রা ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ছাড়াও পাবনার ওপর দিয়ে মৃদু তাপদাহ বয়ে গেছে। তবে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। আকাশে মেঘ থাকলেও তীব্র গরমের কারণে জনজীবনে কষ্ট কমেনি। সড়ক ও উন্মুক্ত স্থানগুলোতে গরমের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে, দেশের ১৪টি নদ–নদীর পানির উচ্চতা বাড়ছে আর ২৫টির পানির উচ্চতা কমছে। তবে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানির উচ্চতা আবারও বাড়তে পারে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুর বিভাগের নদ–নদীর পানির উচ্চতা বেশি বাড়তে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া প্রথম আলোকে বলেন, হাওর এলাকায় আরেকটি ঢল এলেও তা ২২ তারিখের মধ্যে আবার কমে আসতে পারে। কারণ, ২০ ও ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে, এরপর তা কমে আসতে পারে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে হাওর এলাকায় ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই তা কেটে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে ধান কাটার অতিরিক্ত যন্ত্র পাঠানো হয়েছে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন