প্রকল্প বাস্তবায়নকালে হাতির প্রাকৃতিক আবাসস্থল উন্নয়নে নিরাপদ প্রজননের পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান রেজাউল করিম।

মোল্লা রেজাউল করিম বলেন, হাতির আবাসস্থলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য দলগতভাবে স্থায়ী-অস্থায়ী হাতির সংখ্যা নির্ধারণের জন্য জরিপ করা হবে। হাতির গতিবিধি নিরূপণের জন্য গবেষণা করা হবে। মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নকালে হাতির আবাসস্থল উন্নয়ন, নিরাপদ প্রজনন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে হাতির খাদ্য উপযোগী গাছের ১ হাজার ৪০০ হেক্টর বাগান, ১৫০ হেক্টর বেতবাগান ও ২৫০ হেক্টর বাঁশবাগান সৃজন করা হবে।

হাতির আবাসস্থলে দৈনন্দিন পানির চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য নিরাপদ জায়গায় ছোট-বড় ১৫টি জলাধার ও ৫০টি সল্টলেক স্থাপন করা হবে বলে জানায় বন বিভাগ সূত্র।
বন বিভাগ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বনাঞ্চল ও গ্রামের মধ্যে ইকোলজিক্যাল সীমানায় সৌরবিদ্যুৎ–চালিত ১০০ কিলোমিটার বেড়া তৈরি করা হবে।

মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসনের লক্ষ্যে ইকোলজিক্যাল বাউন্ডারি বায়ুফেন্সিং নির্মাণের জন্য ১৬০ কিলোমিটার বেত, লেবু ও বরই–জাতীয় কাঁটা গাছের বাগান সৃজন করা হবে।
হাতি সংরক্ষিত এলাকার পাশে উপদ্রববিরোধী স্কোয়াড গঠন করা হবে।

হাতি-মানুষ দ্বন্দ্ব নিরসনে বর্তমানে চলমান ১২৭টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের পাশাপাশি আরও ৬৮টি নতুন টিম গঠন করা হবে। এই টিমগুলোর মধ্যে হাতি উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হবে।

হাতির গতিবিধি ও চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য ৯০টি আরসিসি টাওয়ার নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া বরইগাছে সনাতন পদ্ধতিতে এক শ টাওয়ার নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক বন কর্মকর্তা জানান, অসুস্থ হাতি ও দলছুট হাতির বাচ্চার জন্য একটি হাতি এতিমখানা বা হাতি উদ্ধারকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি হাতির আবাসস্থলের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য ও হাতির সংখ্যা নির্ধারণের জন্য একটি জরিপ পরিচালনা করা হবে।

প্রকল্প চলাকালে হাতির অপছন্দের খাদ্য চাষাবাদে বিশেষ করে আদা, হলুদ, লেবু, মাল্টা, মরিচ, আনারস চাষে কৃষকদের বীজ-চারা বিতরণ করা হবে। এতে এক শ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

হাতি সংরক্ষণে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রকল্পের অধীন একজন ‘হাতি দূত’ নিয়োগ করা হবে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ময়মনসিংহ ও সিলেটের বনাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বন্য হাতি পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে হাতির আবাসস্থল ও চলাচলের করিডর ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। বনভূমিতে মানুষের বসতি, অনুপযোগী কৃষিকাজ ও অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণের ফলে হাতির আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে।

বেসরকারি তথ্যমতে, ২০২১ সালে বিভিন্ন ঘটনায় ৩৪টি হাতি মারা যায়।
গত পাঁচ বছরে সারা দেশে কমপক্ষে ৫০টি হাতি হত্যা করা হয়েছে বলে জানান রেজাউল করিম।

আইইউসিএন বাংলাদেশের ২০১৬ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, সে সময় বন্য হাতির সংখ্যা ছিল ২৬৮টি। তাদের সবগুলোই ছিল দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনভূমিতে।
হাতির আবাসস্থল ধ্বংস, বনভূমি ধ্বংস ও চোরাই শিকারের ফলে এই হাতির সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে বাংলাদেশে। তাই এশিয়ান হাতি বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন