বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রথম আলো: হালদায় ডলফিনের মৃত্যু বাড়ছে কেন?

মো. মনজুরুল কিবরীয়া: প্রধানত তিনটি কারণে হালদা নদীতে ডলফিনের মৃত্যু বাড়ছে। এগুলো হলো নৌকার প্রপেলার বা অন্য কোনো আঘাতজনিত কারণ, জালে আটকা পড়ে শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া এবং অবৈধ শিকার।
নদীতে যখন কোনো ভারী ইঞ্জিনচালিত নৌকা অথবা বালু তোলার ড্রেজার চলাচল করে তখন ডলফিন কোনো না কোনোভাবে সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হলে মারা যায়। কেননা ডলফিনের চামড়ার নিচে রয়েছে একটি চর্বির স্তর। এই স্তরে আঘাত লাগলে তাতে দ্রুত ইনফেকশন হয়ে ডলফিন মারা যায়। নদীতে যখন মাছ ধরার জন্য জাল ফেলা হয় এই জালে আটকে থাকা মাছ খাওয়ার জন্য ডলফিন জালের কাছে যায়। ডলফিনের ঠোঁটে অসংখ্য দাঁত থাকে এ দাঁতগুলো জালের সঙ্গে পেঁচিয়ে যায়। এভাবে প্যাঁচানো অবস্থায় যদি ৩০ মিনিট পানির মধ্যে ডলফিন আটকে থাকে তখন শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়।
তা ছাড়া মাঝেমধ্যে বিভিন্ন কবিরাজি ওষুধ, বড়শির টোপ ইত্যাদির জন্য বিভিন্ন সময়ে ডলফিন হত্যা করতে দেখা যায়।

প্রথম আলো: তাহলে ডলফিন রক্ষার উপায় কী?

মো. মনজুরুল কিবরীয়া: ডলফিন রক্ষার উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা। নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করতে হবে। নদী যাতে দূষিত না হয়, সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। বালুমহাল ইজারা বন্ধ করা। নদীতে বিশেষ করে ফাঁস জাল বন্ধ করা।

প্রথম আলো: হালদার দখল-দূষণের কী অবস্থা এখন?

মো. মনজুরুল কিবরীয়া: হালদা নদীর দখল কম। তবে দূষণের পরিমাণ অনেক। অবশ্য দূষণের ক্ষেত্রে বিগত সময়ের চেয়ে হালদায় বর্তমানে অনেক অগ্রগতি আছে। হালদা নদীর উজান অঞ্চলের মানিকছড়ি এলাকায় ব্যাপক হারে তামাকচাষ বন্ধ হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও হালদা নদীর দূষণের অন্যতম উৎস হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট ২০১৮ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নন্দীরহাটের এশিয়ান পেপার মিলও দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এখন শুধু সিডিএর অন্যান্য আবাসিক এলাকার মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি এলাকার যে বর্জ্য দূষণ বামনশাহী, কুয়াইশ ও খন্দকিয়া খাল হয়ে হালদা নদীতে পড়ছে, তা যদি বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে নদী ৭০ থেকে ৮০ ভাগ দূষণমুক্ত হবে।

প্রথম আলো: এত কিছুর পরও কেন হালদার বিপর্যয় ঘটছে বারবার? একজন গবেষক হিসেবে আপনার মন্তব্য কী?

মো. মনজুরুল কিবরীয়া: আমি আগেও বলেছি, এত কিছুর পরও হালদার বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ আন্তমন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা। হালদার রক্ষায় যে কয়টি প্রতিষ্ঠান আন্তরিকতা দেখাচ্ছে, তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল কাঠামো খুবই দুর্বল। যার জন্য বিক্ষিপ্ত কাজের সুফল হালদা নদী পাচ্ছে না। হালদার বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন সরকারি প্রশাসন, স্থানীয় জনগণ, এনজিও এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে হালদা কর্তৃপক্ষ গঠন এবং হালদা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নদী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

পরিবেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন